নিউজ ডেস্ক।।
শিক্ষিকা ফারহানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠক মূলতবি করায় আবারও আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকাল থেকে শাহজাদপুরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ভুক্তভোগী ৪ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা জানান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রবিব দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এরপর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা অফিসে সিন্ডিকেট বৈঠক ডাকেন। যথা সময়ে এ বৈঠক শুরু হলেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি মূলতবি হয়ে যায়। এরপর পরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতৃবৃন্দ জরুরি সভা করে আবারও আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন।
সকাল থেকেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত অস্থায়ী একাডেমিক ভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ভুক্তভোগী ৪ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া কান্দাপাড়া এলাকায় অবস্থিত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত ভিসি) আব্দুল লতিফ জানান, সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত মূলতবি করা হয়েছে। কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ বাকি রয়েছে। খুব শিগগিরই ফের সিন্ডিকেট সভা বসবে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ১৬ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। অপমান সহ্য করতে না পেরে পরের দিন ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নাজমুল হাসান তুহিন এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সব পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তাল ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে। ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
এদিকে ওই শিক্ষিকার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। অবশেষে এ অচলাবস্থা নিরসনে ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিন্ডিকেট মিটিং শেষে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হয়। এর পরও প্রশাসনিক ভবনে ভিসিসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। শনিবার ০২ অক্টোবর দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবন খুলে দেন তারা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
