নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের লেবুখালী এলাকায় পায়রা নদীর ওপর নির্মিত ৪ লেন বিশিষ্ট সেতুতে ফেরির ভাড়ার চেয়ে ৩ থেকে ৭ গুণ বেশি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পরিবহন ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
প্রায় ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর লেবুখালী এলাকায় পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতু আগামী ২৪ অক্টোবর যানবাহনের জন্যে খুলে দেওয়া হবে। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলেন।
১ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থ সেতুর উভয়পাড়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক রয়েছে। নদী শাসনের কাজও প্রায় ৯০ ভাগ শেষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এটি উদ্বোধন করবেন।
এ সেতুটিতে টোল নির্ধারণ করে সম্প্রতি বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। যেখানে ফেরি পারাপারে ভারী ট্রাকের টোল ছিল ১০০ টাকা সেখানে পায়রা সেতুতে টোল নির্ধারিত হয়েছে সাড়ে ৭ গুণ বেশি তথা ৭৫০ টাকা।
বড় বাসের ফেরি ভাড়া ছিল ৯৫ টাকা, সেতুতে তা নির্ধারিত হয়েছে ৩৪০ টাকা যা সাড়ে ৩ গুণ বেশি। মাইক্রোবাসের ৪০ টাকার ভাড়া হয়েছে ১৫০ টাকা যা পৌনে ৪ গুণ বেশি।
সেতুটিতে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী ট্রেইলার ভাড়া বা টোল ৯৪০ টাকা, হেভি ট্রাক ৭৫০ টাকা, মিডিয়াম ট্রাক ৩৭৫ টাকা, বড় বাস ৩৪০ টাকা, মিনিট্রাক ২৮০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যান ২২৫ টাকা, মিনিবাস-কোস্টার ১৯০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৫০ টাকা, ফোর হুইল চালিত যানবাহন ১৫০ টাকা, সেডান কার ৯৫ টাকা, ৩-৪ চাকার যান ৪০ টাকা, মোটরসাইকেল ২০ টাকা, রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, ঠেলাগাড়ি ১০ টাকা হারে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
অথচ ওই সেতুর নিচে নদী পারাপারে ফেরি ভাড়া: ট্রেইলার ৩৭৫ টাকা, হেভি ট্রাক ১০০ টাকা, মিডিয়াম ট্রাক ৯৫ টাকা, বড় বাস ৯৫ টাকা, মিনিট্রাক ৯৫ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যান ৯০ টাকা, মিনিবাস-কোস্টার ৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ৪০ টাকা, ফোর হুইল চালিত যানবাহন ৪০ টাকা, সেডান কার ২০ টাকা, ৩-৪ চাকার যান ১০ টাকা, মোটরসাইকেল ৫ টাকা, রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, ঠেলাগাড়ি ৫ টাকা।
সেতুটির টোল নির্ধারণ নিয়ে পরিবহন সেক্টরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘যদি টোল পুনর্নির্ধারণ করা না হয় সেক্ষেত্রে বরিশাল-পটুয়াখালী রুটের পরিবহন ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে।’
বরিশাল-পটুয়াখালী রুটে যাত্রী প্রতি নির্ধারিত ভাড়া ৮০ টাকা’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘হয় ভাড়া বাড়ানো হোক নতুবা টোল কমানো হোক।’
যাত্রীবাহী বাসচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এই ব্রিজে অনেক বেশি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে ধার্য করা উচিত।’
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর কামরুল হাসান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ফেরি ও সেতুর টোলের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। সড়ক পরিবহন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে টোল নির্ধারিত হয়ে থাকে। এতে আমাদের কোনো হাত নেই।’
এ দিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব স্থানীয়রা। অহিদুজ্জামান নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লেবুখালী সেতু অবশ্যই সরকারের একটি বড় অর্জন। কিন্তু, এর টোল নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। নিশ্চয়ই এটা জনগণের পকেট থেকে যাবে।’
রাজিবুল রাজ নামের একজন লিখেছেন, ‘পায়রা সেতুতে মোটরসাইকেলের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটিকে পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে মনে করি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
