অনলাইন ডেস্ক।।
দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। এসব সমস্যার মধ্যে চোখ ক্লান্ত হওয়া, চোখ ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি। এজন্য যতটা সম্ভব ডিভাইস থেকে দূরে রাখতে হবে
মহামারির কারণে কয়েক মাস ধরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিন্তু তাই বলে পুরোপুরি থেমে নেই শিক্ষাদান কর্মসূচি। এই নতুন অবস্থায় পাঠদান অব্যাহত রাখতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিভিশন ইত্যাদি ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। আর দীর্ঘমেয়াদে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও। করোনাকালে মাঠের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে শিশুরা। সময় কাটাতে শিশুদের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বাড়ছে। গত বছরের জুন-জুলাই মাস থেকে আমাদের কাছে অনেক শিশু আসছে চোখের সমস্যা নিয়ে। এদের অনেকেরই আগে চোখে সমস্যা ছিল না। এখন চশমা দিতে হচ্ছে। অনেক শিশুর চশমার পাওয়ার খুব দ্রুত বাড়ছে। অনেকের চোখে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, চোখ চুলকাচ্ছে, চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে।
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার, ট্যাবলেট, ই-রিডার, মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে চোখের যেসব সমস্যা হয় এদের একত্রে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল ভিশন সিনড্রোম বলে। ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার এখন নিত্যসঙ্গী। কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপকহারে কম্পিউটার ব্যবহার হচ্ছে। তা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মার্টফোনের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। স্মার্টফোন একটা মিনি কম্পিউটার। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ব্যবহারের নিয়মকানুন না জানার কারণে চোখ, মাথা এবং ঘাড়ে কিছু উপসর্গের সৃষ্টি হয়। উল্লেখযোগ্য উপসর্গগুলো হচ্ছে-
-চোখ ক্লান্ত হওয়া
– চোখে ব্যথা, মাথাব্যথা
-চোখে ঝাপসা দেখা
চোখ শুস্ক মনে হওয়া এবং জ্বালাপোড়া করা
ঘাড় ও পিঠ ব্যথা করা
– আলোতে তাকাতে অসুবিধা হওয়া
একটি জিনিসকে দুটি দেখা
দীর্ঘক্ষণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। শিশুরা মোবাইল হ্যান্ডসেট অনেকক্ষণ ব্যবহার করলে তাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। রেডিয়েশনের প্রভাবে একটা শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। করোনার কারণে এখন তো অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে খুব একটা বের হচ্ছেন না। খুব দরকার না হলে হাসপাতালে আসেন না। ফলে চোখের যে ক্ষতিগুলো সেটা এখন আমরা ওভাবে বুঝতে পারছি না। এটা তো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, আরও বছর খানেক গেলে শিশুদের যখন চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেবে, তখন আমরা বুঝতে পারব করোনাকালে মোবাইল-ল্যাপটপের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে বাচ্চাদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
যেসব কারণে এই উপসর্গগুলো হয় তার মধ্যে-
– স্বল্প আলোতে কাজ করা
কম্পিউটারের পর্দায় আলোর ঝলকানি
-চোখ থেকে পর্দার দূরত্ব সঠিক না হওয়া
– সঠিক নিয়মে চেয়ারে না বসা
ত্রুটিপূর্ণ চোখের পাওয়ার
কম্পিউটার ব্যবহারের নিয়মাবলিঃ
পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নতি ও দৃষ্টির সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব।
চোখের পাওয়ারের সমস্যা: চক্ষু ডাক্তার দ্বারা চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। পাওয়ারের সমস্যা থাকলে উপযুক্ত পাওয়ারের চশমা নিতে হবে। দূরদৃষ্টি এবং কাছের পাওয়ার দুটিই পরীক্ষা করাতে হবে।
চোখের পলক>: সাধারণত প্রতি মিনিটে চোখের পলক পড়ে ১৬ বার। পলকের কারণে চোখের পানি সম্মুখভাগে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কম্পিউটার ব্যবহারের সময় একাগ্রচিত্তে দেখার কারণে পলক কমে যায়। ফলে চোখ সহজেই শুস্ক হয়। চোখ জ্বালাপোড়া করে। তাই সচেতন থাকতে হবে যেন চোখের পলক কমে না যায়।
২০-২০-২০ পদ্ধতি: ২০ মিনিট কাজের পর ২০ ফুট দূরে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে।
চেয়ারে বসা: চেয়ারের ব্যাক রেস্টে পিঠ রেখে মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে হবে। সামনের দিকে ঝুঁকে কাজ করা যাবে না।
মনিটরঃ মনিটর চোখ থেকে ২০-২৪ ইঞ্চি দূরে থাকতে হবে। মনিটরের মধ্যভাগ চোখের লেভেল থেকে ৪-৬ ইঞ্চি নিচে থাকবে। মনিটর সরাসরি সামনে এবং ১৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পেছনের দিকে হেলানো থাকবে। উচ্চ কনট্রাস্ট এবং তুলনামূলক কম উজ্জ্বলতায় মনিটরের আলো হলে ভালো। আলোর ঝিলিক কমানোর জন্য মনিটরের ওপরে আলাদা গ্লেয়ার নিরোধক পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।
কক্ষের আলোঃ ঘরের আলো বেশি উজ্জ্বল বা বেশি কম হওয়া উচিত নয়। আলোর উৎস থেকে মনিটর দূরে রাখতে হবে, যাতে আলো বিচ্ছুরিত না হয়।
অক্ষরের আকার: বড় আকারের অক্ষর হলে পড়তে সুবিধা হয়। হালকা রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডে গাঢ় রঙের অক্ষর হলে চোখের ওপর চাপ কম পড়ে।
কিবোর্ড: কিবোর্ড এবং মাউস হাতের কনুইয়ের নিচ বরাবর থাকবে। কবজিকে সোজা রাখতে হবে। এ জন্য হাতল ব্যবহার করা যেতে পারে।
সহযোগী অধ্যাপক (চক্ষুু) অব. জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
