এইমাত্র পাওয়া

কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা প্রণোদনা চান

নিউজ ডেস্ক।।

কমলগঞ্জ উপজেলার ৩০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রায় ২৫০ শিক্ষক-কর্মচারী করোনাকালে বেকার হয়ে পড়েছেন। মানুষের সন্তানদের মানুষ গড়ার দায়িত্ব পালন করছেন যে শিক্ষকরা, তারাই আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় দুই বছর ধরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এর মধ্যে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। কারণ তাদের পরিবার চলে শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায়।

অসচ্ছল পরিবারের এসব শিক্ষককে সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের মতো কমলগঞ্জ উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্কুলগুলোর হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীরা। স্কুল বন্ধ থাকায় বেতন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। অর্থকষ্টে জীবনযাপন করা শিক্ষকরা রেশন কার্ড ও নগদ টাকা প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জে প্রায় ৩০টি কিন্ডারগার্টেন আছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এ শিক্ষকরা প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করে থাকেন। এই কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি দিয়েই চলে। শিক্ষার্থীদের বেতনেই সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন প্রদান করা হয়। কিন্তু করোনায় সরকারি আদেশে গত দুই বছর ধরে সব কিন্ডারগার্টেন বন্ধ থাকায় কোনো বেতন নেই শিক্ষকদের।

কিন্ডারগার্টেন পরিচালক অলি আহমদ খান বলেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে কিন্ডারগার্টেন নামটিই একদিন মুছে যাবে। বিভিন্ন স্কুলে টিউশন ফি বন্ধ থাকায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক সম্মানীও বন্ধ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেজি স্কুলের শিক্ষকরা নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। যাদের হাত ধরে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া শিখে আজ মানুষের মতো মানুষ হয়েছেন, জীবনে সচ্ছলতা পেয়েছেন। সেই স্কুলের শিক্ষকরা বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষকরা দিনের পর দিন কষ্টে জীবনযাপন করছেন, দেখার কেউ নেই।

কমলগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অর্থবিত্ত না থাকলেও সমাজে তারা শিক্ষক হিসেবে সম্মানীয়। ফলে তারা না পারছেন লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে, না পারছেন মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে। সরকারের পক্ষ থেকে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার কয়েকজন কেজি স্কুলের শিক্ষক বলেন, কেজি স্কুলে শিক্ষকতা ও প্রাইভেট পড়িয়ে কোনো রকম পরিবারের খরচ সামাল দিতে হচ্ছে। এমনিতেই কেজি স্কুল থেকে ঠিকভাবে বেতন পান না, তার ওপর করোনায় স্কুল বন্ধ। ফলে আর্থিক অসচ্ছল শিক্ষকদের পরিবারে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। শিক্ষিত মানুষ চক্ষুলজ্জার ভয়ে কাউকে বলতেও পারছে না, আবার সইতেও পারছে না। তাই সরকার যেন তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী কিন্ডারগার্টেনসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আলাদাভাবে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো চালু করা যাচ্ছে না।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.