রফিকুল আলম বকুল মেহেরপুর।।
করোনা সংক্রমণ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা মানাতে ভ্রাম্যামাণ আদালতের অভিযান অব্যহত রেখেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রশাসন। গতকাল চতুর্থ দিন রোববার সন্ধ্যা থেকে এক ঝটিকা অভিযানে ৪টি মামলায় ৪ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি খানম।

রোববার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয় বাঁশবাড়ীয়া বাজার থেকে। বাঁশবাড়ীয়া বাজারে চিড়ার মিল চালু থাকায় মালিকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও মিল বন্ধে করে দেওয়া হয়। চলমান নির্দেশনায় দুপুর বারটার পর এ ধরনের মিল বন্ধ থাকবে।
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত গাড়াডোব, আযান, জুগিন্দা, চিৎলাসহ আরও কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালায়। চিৎলা বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী অভিযান দলের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান ফেলে পালিয়ে যায়। তবে তিনি রেহাই পাচ্ছেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্শেনায় চায়ের দোকানগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। চায়ের দোকানের মাচানেই আড্ডা হয় সার্বক্ষণিক। এতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে মুদিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা রাখা যাবে দুপুর বারটা পর্যন্ত।
নির্দেশনা অম্যান্যকারীদের কাছ থেকে গতকালের অভিযানে ৪ হাজার ২শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। গতকাল গাড়াডোব গ্রামের মুদি দোকানদার জিয়াউর রহমান কে এক সপ্তাহের জেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ভ্রাম্যমাণ আদালত কারণ এর আগে তাঁর দোকান খোলা রাখা ও দোকানের সামনে লোকজন বসে তাবা খেলা করায় সেদিন সতর্ক করেন তিনি । কিন্তু গতকাল ও একই চিত্র দেখতে পাওয়া যায় তার দোকানের সামনে ।
বারবার সতর্ক করার পরও সরকারী নির্দেশনা ভঙ্গ ও দোকান খোলা রাখার অপরাধে তিনি এবার জরিমানা ধার্য না করে জেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন কিন্তু এ সময় দোকানের সামনে জিয়াউর এর মা চলে আসেন এবং অনুরোধ করেন তার ছেলেকে জেল না দেয়ার ভবিষ্যতে আর এ ধরনের অপরাধ করবেন না বলে জানান ।
একজন বয়স্ক মায়ের কথা মানবিক ও চৌকস উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফেলতে পারেননি তিনি তৎক্ষনাৎ সেই মায়ের অনুরোধে ছেলের সাজার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করেন ।
মায়ের সামনে ছেলেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তুলে আনলে একজন বয়স্ক মা অনেক কষ্ট পাবেন এই ভেবে একজন মানবিক ও একজন মা হিসেবে সেই মা কে সম্মান দেখিয়ে জেল এর পরিবর্তে জরিমানা ধার্য্য করে চলে আসেন তিনি । গাংনী উপজেলায় গত জুন মাসের ১৭ তারিখে উপজেলা নির্বাহি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন মৌসুমী খানম । যোগদান করার পর থেকেই গাংনী উপজেলার মানুষ মৌসুমী খানমের উপর খুব সন্তুষ্ট ।
এই করোনা পরিস্থিতিতে গাংনীর মানুযকে সচেতন করার জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও মানুষকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছেন তিনি । তিনি বিভিন্ন সময় এবং প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি কাজ করে চলেছেন । সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন খুব অল্প সময়ে তিনি ।
তাঁর কর্ম তৎপরতায় গাংনী উপজেলার মানুষ খুশী । দিনদিন যে ভাবে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ সেই সময় এ রকম একজন দক্ষ ও চৌকশ উপজেলা নির্বাহি অফিসার পেয়ে গাংনীর মানুষ আনন্দিত কারন তিনি শুধু কঠোর হচ্ছেন তা নয় তার মানবিক দিকের প্রমাণ ও পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ।
অত্যান্ত অমায়িক ব্যবহার ও ভাল আচরণ দিয়ে তিনি মানুষকে সচেতন করতে সমর্থ হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে চলেছেন ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
