এইমাত্র পাওয়া

৫ দশকে শিক্ষায় উন্নয়ণ

অনলাইন ডেস্ক।।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অবকাঠামোর উন্নয়ন, ৯৮ শতাংশ এনরোলমেন্ট, বছরের প্রথম দিন নতুন বই দেওয়া উল্লেখ্যযোগ্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, নতুন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন ঘটেছে এ খাতে।  গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সব স্তরে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা শুরু হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনে কারিকুলাম পরিবর্তন করা হচ্ছে।

শিক্ষার অগ্রগতি বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আমরা প্রতিবছর দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছি। প্রায় শতভাগ এনরোলমেন্ট। কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্ট বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু একযোগে ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন। ২০১৯ সালে আড়াই হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন করে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার সব স্তরে কারিগরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে ধারাবাহিক মূল্যায়ন শুরু করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করা হচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অগ্রগতি উল্লেখ্যযোগ্য।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭ হাজার ৬৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের পর ২০১৩ সালে কয়েক ধাপে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। শিক্ষক সংকট মেটাতে ব্যাপকভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। করোনার সময় প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে উপবৃত্তি চালু করা হয়েছে এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পর মিড-ডে মিল চালু করার হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা ওয়াশ ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগেই। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়েছে। পাঠদান উন্নত করা হয়েছে। প্রাথমিকেও শুরু হয়েছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে একাধিক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। গণিত অলিম্পিয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। করোনার কারণে সর্বশেষ প্রাথমিক স্তরে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কয়েক বছরে ৫ শতাধিক স্কুল ও কলেজ সরকারি করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে স্কুল এবং দুটি করে কলেজ সরকারি করার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

২০১৯ সালে ২ হাজার ৭৩৬টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিন্যামূল্যের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিন পৌঁছানো সরকারের বড় সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী এনরোলমেন্ট প্রায় ৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ৫০ শতাংশ এনরোলমেন্টে উন্নীত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০১০ সালে আইন প্রণয়ন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০৭টি। নতুন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। কৃষিসহ বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

২০২০ সাল থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৪০টি মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা এবং ২০২২ সাল থেকে মাধ্যমিকের সব ক্লাসে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রেডিং সিস্টেমে সমন্বয় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং প্রতিরোধে এন্টি বুলিং বিধিমালা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কর্নার’ চালু করা, ধারাবাহিক মূল্যায়নে পাইলটিং, ২০২০ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনটি বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং ২০ শতাংশ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নে চালু করা হয়েছে। ২০ হাজার স্কুলে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানোর উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের আমিষের ঘাটতি মেটাতে পরিপত্র, মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বাস্থ্য-পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

রি-প্রোডাকটিভ হেলথ ও জেন্ডার ইকুইটি বিষয়ে সব স্কুলে কার্যক্রম চালু, পারিবারিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতে সব স্কুলে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা অভিভাবকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক দশকে এনরোলমেন্ট বাড়ার সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় নারী শিক্ষার্থীরা এই সময়ে অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফল করেছে।

এসব অর্জনের পরও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশের। ১৯৭৩ সালে ড. কুদরত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা এখনও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাস্তবায়ন শুরু করলেও গত কয়েক বছরে এর কোনও অগ্রগতি নেই। ড. কুদরত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়। এর কিছু অংশ বাস্তবায়ন করা হলেও বড় একটি বাস্তবায়ন করার আগে এই শিক্ষানীতি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি রোধে ১০ বছর আগে শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখন হয়নি। তবে সম্প্রতি শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন পাসের পর তা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধসহ ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.