এইমাত্র পাওয়া

অচিরেই খুলছে না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়?

নিউজ ডেস্ক।।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এ মামুন বলেছেন, এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরিস্থিতি নেই। তবে নির্মাণাধীন ১০ তলা বিশিষ্ট ছয়টি হলের নির্মাণ কাজ শেষ হলে আমরাও দাবি করব যাতে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
শনিবার এসব কথা বলেন অধ্যাপক এ এ মামুন। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ আবাসিক হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের গণরুমে থাকতে হয়। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আমি এর বিপক্ষে। কখনোই চাইব না ছেলেমেয়েরা এই পরিস্থিতিতে গণরুমে থাকুক। তাই হলগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে তবেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি তুলব।

হলের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে হলগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর প্রশাসন কবে কীভাবে শিক্ষার্থীদের হলে তুলবে সেটা তাদের বিষয়।

তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির আগে ওইসব হলে শিক্ষার্থী উঠানোর মতো পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন শিক্ষক সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দাবি জানান। তবে এ দাবিকে সরকার বিরোধী অংশের দাবি বলে আখ্যা দেন জাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

তিনি বলেন, যারা দাবি তুলেছে তারা অংশে খুবই ছোট। বৃহৎ অংশ চায় না বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হোক। যারা বিবৃতি দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি জানিয়েছে তারা অধিকাংশই সরকার বিরোধী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। এদের বড় একটি অংশ একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থিত থেকেও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জোরালো বিরোধিতা করেনি। তারা তো চাইলেই ওই বৈঠক থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারত। কিন্তু সেটা না করে রাতে বিজ্ঞপ্তি দিল।

তবে বিবৃতিদাতা শিক্ষকদের একজন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, একাডেমিক কাউন্সিল থেকে বের হয়ে গেলে তো তারা এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতো সেটা কী ভালো হতো? আমরা সভায় থেকে আমাদের কথা তুলে ধরেছি। তারা যদি সত্যিকার অর্থে মনে করেন যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা স্বাস্থ্যবান্ধব সিদ্ধান্ত তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি দিন শত শত মানুষ আসা যাওয়া করছে, হাজারো শ্রমিক কাজ করছে তারা কী মানুষ না? আমরা মনে করি খুব দ্রুত সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা দরকার। কিন্ত এমন যদি হয় আমরা শুধু অনলাইনে ক্লাস নিব কিন্তু সশরীরে ক্লাস শুরু করার পদক্ষেপ নিব না তবে এমন সিদ্ধান্তের আমরা বিরোধিতা করি।

এদিকে গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এবং নিজ নিজ একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সশরীরে পরীক্ষা নেয়া যাবে বলে বলা হয়।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির শিক্ষক নেতারাও সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে মত দিয়েছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.