এইমাত্র পাওয়া

করোনা নিয়ে পাঁচটি জরুরি প্রশ্ন

  আব্দুল কাইয়ুম    

করোনার টিকা নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে সংশয়ে আছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, করোনার টিকায় তেমন কোনো ভয় নেই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সাধারণত তেমন কিছু না, হলেও তীব্র না। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ এসব বিষয় নিয়ে পাঠকদের কাছে প্রশ্ন চেয়েছিল। প্রচুর প্রশ্ন এসেছে। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর পক্ষ থেকে সেসব প্রশ্নের উত্তরও প্রকাশিত হয়েছে (২৭ জানুয়ারি ২০২১, অনলাইন সংস্করণ)। এর আলোকে এখানে বাছাই করা পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি।

১. টিকা না নিলেই বা কী ক্ষতি? এ ধরনের প্রশ্ন অনেকের মনে থাকতে পারে। কারণ অনেকের করোনা তো শুধু আইসোলেশনে থেকেই ভালো হয়ে গেছে। তা ছাড়া এখন তো করোনার সংক্রমণের হার কমে আসছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ‘আমাদের দেশে করোনাভাইরাসে হার্ড ইমিউনিটি প্রায় অর্জিত হয়েছে। এখন অন্যরা অনেকে টিকা নিলে তো আশঙ্কা আরও কমে যাবে। তাহলে টিকা না নিয়ে অপেক্ষা করলে ক্ষতি কী?’ এ রকম চিন্তা অনেকের মনে থাকতে পারে।

এর উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের যুক্তি ভুল ও ক্ষতিকর। টিকার তেমন কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। অনেকের করোনা সামান্য চিকিৎসায় ভালো হয়ে গেলেও এর জের চলতে থাকে অনেক দিন ধরে। কারণ, করোনার ফলে ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, লিভার, কিডনিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই ক্ষতি সারিয়ে উঠতে এমনকি এক-দুই বছরও লাগতে পারে। অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দেয়। অনেকে করোনায় মৃত্যুবরণ করেন। তাই টিকা না নিয়ে অপেক্ষা করাটা হবে জেনেশুনে একটা বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে নিজেকে ঠেলে দেওয়া।

২. কারও একবার করোনা হয়ে থাকলেও কি টিকা নেওয়া দরকার? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাঁ, তাঁদেরও টিকা নেওয়া নিরাপদ এবং উপকারীও বটে। কারোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলে এক ধরনের প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত নন যে এর স্থায়িত্বকাল কত দিন। আগে করোনা হয়ে থাকলে সংক্রমিত হওয়ার প্রায় ৯০ দিন পর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

৩. হয়তো করোনায় আক্রান্ত, কিন্তু টের পাননি, এ অবস্থায় টিকা নিলে কি কাজে লাগবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রকম পরিস্থিতির দৃষ্টান্ত এখনো খুব বেশি পাওয়া যায়নি, তবে ভাইরাস গবেষকদের মতে, এ অবস্থায় টিকা নিলে বাড়তি কোনো উদ্বেগের কারণ নেই। টিকার ফল পেতে অন্তত ৪-৫ দিন থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। তাই টিকার কারণে করোনা সংক্রমণের কোনো ভয় নেই। বরং শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা উজ্জীবিত হবে। হয়তো শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেবে, কিন্তু সেটা আগে থেকে আক্রান্ত করোনাভাইরাসের কারণে, টিকার জন্য নয়। নির্ধারিত কিছু সময় পর টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেহে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।

৪. বয়স্কদের জন্য টিকা কি কাজে লাগবে? এর উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যন্ত দেখা গেছে, কাজে লাগে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা থেকে জানা যায়, টিকা কম ও বেশি বয়স্কদের জন্য প্রায় একই ধরনের কাজ করে। তবে বয়সের কারণে মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সব সময় টিকায় ভালো সাড়া দিতে পারে না। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকায় দেখা গেছে বয়স্করাও ভালো সাড়া দেন।

৫. কবে আবার সবাই নির্ভয়ে নাটক-সিনেমা দেখতে পারব? এর উত্তরে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ মানুষ টিকা নিলে নিরাপদে সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব। যদি টিকাদান প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে আগামী বসন্তের শেষ বা গ্রীষ্মের শুরুতে স্বাভাবিক অবস্থায় যাওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ড. ফাউসি বলেন, সবই নির্ভর করছে টিকা গ্রহণ ও জনগোষ্ঠীর ভেতর সংক্রমণের মাত্রার ওপর। যদি ৫০ শতাংশ মানুষ টিকা নেন, তাহলে অনেক অনেক বেশি সময় লাগবে।

গাড়ির জানালা খোলা রাখুন
চলাফেরায় বাস বা অন্যান্য যানবাহনে যাতায়াতের সময় জানালা খোলা রাখা দরকার। এখন দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। তাই অনেক সময় বাস বা গাড়ির জানালা বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে গাড়ির যাত্রীদের একজনের করোনা থাকলে অন্য সবাই আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু জানালা খোলা রাখলে ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা অনেক কমে যায়। এখানে অ্যারো-ডাইনামিকসের তত্ত্ব কাজ করে। গাড়ির সামনের জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকে পেছনের বিপরীত পাশের জানালা দিয়ে সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু জানালা বন্ধ থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ভাইরাস গাড়ির ভেতরে ঘুরতে থাকে এবং অন্যদের সহজে সংক্রমিত করে।

করোনা কমছে
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনা সংক্রমণের হার কমে আসছে। এখন তো ৫ শতাংশের কম। এ রকম আরও কয়েক সপ্তাহ চললে কিছুটা নিরাপদ বোধ করা যাবে। কিন্তু এটা আপনাআপনি হবে না। আমাদের প্রত্যেকের জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মুখে মাস্ক অবশ্যই। এমনকি করোনা চলে গেলেও মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ার অভ্যাসটা রাখতে হবে। এটা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বিল গেটস বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো ভয়াবহ অতিমারির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

আব্দুল কাইুয়ম, মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.