নিজস্ব প্রতিবেদক।।
২৭ ক্রিকেটারকে নিয়ে স্কিল ট্রেনিং করছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। উদ্দেশ্য ছিল শ্রীলঙ্কা সফর। কিন্তু দ্বীপরাষ্ট্রের কঠোর কোয়ারেন্টাইন শর্তে সফরটি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তবে মিশ্র প্রতিক্রয়াও রয়েছে। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরতে মুখিয়ে তারা। এজন্য আশা নিয়ে সামনে তাকিয়ে মুমিনুল হক, নাজমুল হাসান শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজরা।
মুমিনুল হক: চেয়েছিলাম তো মাঠে ফিরতে। এজন্য অনুশীলনে কোনও ঘাটতি রাখছিলাম না। ব্যক্তিগত ট্রেনিং শেষে দলগত ট্রেনিং করছিলাম। কিন্তু সিরিজটি তো স্থগিত হলো। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন আসলেও কঠিন হতো। জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আসার কথা রয়েছে। ওরা এলে ক্রিকেটে ফিরতে পারবো। অন্যথায় আমার অপেক্ষা আরও লম্বা হতে পারে।
ইমরুল কায়েস: করোনার কারণে এমনিতেই দীর্ঘদিন অনুশীলন করা হয়নি। পরিস্থিতি খানিকটা ভালো হওয়ার পর আমরা ট্রেনিং শুরু করেছি। কিন্তু এখন সিরিজটি পিছিয়ে গেল। আমরা খুব আশা নিয়ে বসেছিলাম, সিরিজটা হবে। অন্য দলগুলো মাঠে ফিরলেও আমরা এখনও ট্রেনিং করছি। আসলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন লম্বা সময়। এক ঘরে ১৪ দিন পার করা খুব কঠিন কাজ। বোর্ড সিদ্ধান্তটা ভালো নিয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আমরা আবার হয়তো যাবো।
নাজমুল হোসেন শান্ত: বোর্ড যেটা ভালো মনে করেছে অবশ্যই সেটা ভালো। ক্রিকেটার হিসেবে বলবো, আমাদের খেলার ইচ্ছে ছিল। দীর্ঘদিন যেহেতু বাইরে, খেলতে পারলে ভালো লাগতো। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হচ্ছে, এটা অবশ্যই ভলো দিক। শুধু জাতীয় দলে যারা আছি তারাই নয়, সবাই খেলতে পারবো। এটা অবশ্যই স্বস্তির ব্যাপার।
তাসকিন আহমেদ: হোটেল ছাড়ার সময় বুঝছিলাম হয়তো সিরিজটা হচ্ছে না। স্থগিত হওয়ার খবরটা শুনে একটু খারাপই লাগছে। আপাতত আমাদের করার আছে সামান্য। বোর্ড আমাদের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলতে পারলে অনেক ভালো লাগতো। এমন একটা সময় শ্রীলঙ্কা সিরিজ স্থগিত হলো, যখন আমি নিজেকে অনেকটাই গুছিয়ে ফেলেছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত। সামনে আরও সুযোগ আসবে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকবো। সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখবো। আগে যে ভুল করেছি সেটা যেন আর না হয়।
কাজী নুরুল হাসান সোহান: সিরিজ হবে ভেবেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এখন হচ্ছে না দেখে হতাশ হওয়ার তেমন কিছু দেখি না। সামনে পরিস্থিতি ভালো হলে সিরিজ হবে। আমরা এখন কোচদের সঙ্গে কাজ করতে পারছি সেটাও অনেক। সামনে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো বেশ ভালো হবে আশা করছি। সবাই যেহেতু খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। ম্যাচগুলো ভালোই হবে।
মেহেদী হাসান মিরাজ: আসলে আমরা তো খেলতে চাচ্ছিলাম। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন অনেক কঠিন কাজ। যাই হোক এখন স্থগিত হয়েছে, আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আমরা পরে গিয়ে যাবো আর খেলবো। এটা ভালো হবে। নিজেদের ফিটনেস, খেলাধুলায় আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। সামনে যখন বলবে তখনই আমরা মাঠে নামতে পারবো।
মোহাম্মদ মিথুন: আমরা আমাদের কাজ করেছিলাম। বিসিবিও নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় আমাদের ফিরিয়েছে। কোচিং স্টাফরাও চলে এসেছে। এখন সব তো আগের মতোই চলছে। তবে শ্রীলঙ্কায় গেলে এরকমটা হতো না বলে শুনেছি। আমার দৃষ্টিতে সিরিজটা স্থগিত হয়ে এক অর্থে ভালোই হয়েছে। ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন মেনে কোনও ক্রিকেটারের পক্ষেই খেলা সম্ভব নয়।
সাইফ উদ্দিন: আমি প্রথমবার টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিল দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরব টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে। আপাতত এ স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। বিসিবি আমাদের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বছর সিরিজটি না হলে সুবিধাজনক সময়ে নিশ্চিতভাবেই হবে। এই মুহূর্তে যা করছিলাম, সেটা আরও ভালোভাবে করে যাবো।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
