এইমাত্র পাওয়া

বেড়িয়ে আসুন ভুতিয়ার পদ্মবিল

পানির উপর বিছানো সবুজ পাতা ভেদ করে হেসে ওঠে লাল-সাদা একেকটি পদ্ম। ভাসমান একেকটি পদ্মের রূপশোভা অভিভূত করে যে কাউকে।

ছবির মতো সাজানো, হৃদয়কাড়া দৃশ্য দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন অনায়াসে। বিলে ফুটে থাকা অজস্র পদ্মের সৌন্দর্য আসলেই অপার্থিব।
চিরায়ত গ্রাম-বাংলার অন্যতম মনভোলানো দৃশ্য এটি। গানে, কবিতায় অসংখ্য বার নীলপদ্মের কথা বলেছেন কবিরা। নীলপদ্ম হয়তো চাইলেই পাওয়া যাবে না, তবে গোলাপি পদ্মের সৌন্দর্যে আপনি চাইলেই মুগ্ধ হতে পারেন। হ্যাঁ, এমন মুগ্ধ করার সৌন্দর্যের ডালি খুলে বসেছে খুলনার তেরখাদার ভুতিয়ার পদ্মবিল। এখন যেকোনো দিন গেলে আপনি দেখতে পাবেন অগণিত পদ্মের মেলা।

ভুতিয়ার পদ্মবিল। জলজ ফুলের রানি পদ্মের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে তুলতে পারেন অসংখ্য ছবি। একদিনেই পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন এই পদ্মবিল থেকে।

মন খুব উতলা হয় দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে, সেটা তো আর সম্ভব না এই পরিস্থিতিতে। তাই সুযোগ করে খুলনার আশপাশের এলাকার যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন তেরখাদার বিখ্যাত পদ্মবিলে।

বিলে বাতাসেও ছুঁয়ে যায় ফুলের ঘ্রাণ। বিস্তৃত জলরাশির বুকে দলবেঁধে ফুটে আছে নয়ন জুড়ানো পদ্ম। চোখ যতদূর যায় সবুজ গাছের সঙ্গে মিশে হাতছানি দিচ্ছে জলরাশির পদ্ম আর পদ্ম।

প্রকৃতির এই যৌবনাবতী রূপ-রসের সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে নয়, পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিদেরও করেছে বিমোহিত।

…এমনই একজন খুলনা ট্রাভেলার্সের অ্যাডমিন রিয়াজ মাসুদ। তিনি   বলেন, পদ্মবিল অসম্ভব সুন্দর প্রাকৃতিক একটা জায়গা।

এখানে যাওয়ার পর রাস্তার সব কষ্টই শেষ হয়ে যাবে।

হোগলাবন, কচুরিপানার মধ্য দিয়ে ছোট ডিঙি নৌকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে বেড়াতে পারেন বিশাল বিলের মধ্যে। তিনি অভিযোগ করেন, পদ্মবিল থেকে মানুষ যেভাবে ফুল ছিঁড়ে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে কিছুদিন পর কেউ ফুল পাবেন না এখানে। তার মতে, বিলে যাওয়ার উপযুক্ত সময় ভোরবেলা আর না হলে বিকালবেলা।

…মাসুদ বলেন, সবার কাছে একটাই অনুরোধ কেউ ফুল ছিঁড়বেন না আর যদি খুব বেশি ছিঁড়তে ইচ্ছা করে তাহলে একটির বেশি না।

স্থানীয়রা জানায়, বিলটি আকারে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর হলেও ৪০-৫০ হেক্টর জমিতে পদ্মফুল ফোটে। বাকি অংশে রয়েছে হোগলা, শেওলা আর আগাছা। প্রতিবছর অনেক দর্শনার্থী এখানে আসেন ঘুরতে। করোনাকাল হওয়া সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পদ্মবিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন এখানে।

তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেছেন, ‌অপরূপ সৌন্দর্যের আঁধার উপজেলার পদ্মবিল হতে পারে পর্যটকদের কেন্দ্রবিন্দু।

দিন দিন বিলটি সৌন্দর্য প্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পদ্মফুলকে ঘিরে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। এই স্থানের নিরাপত্তা বজায় ও একে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিনোদন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

…যেভাবে যাবেন

খুলনা শহরের জেলখানা ঘাট পার হয়ে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পর তেরখাদা বাজার। বাস বা টেম্পুতে সেখানে যাওয়া যায়। তেরখাদা বাজারে নেমে ইজিবাইক যোগে চরকুশলা গ্রামের পদ্মবিল পৌঁছানো যাবে। খুলনা শহর থেকে বিলে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

পদ্মবিলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। পুরো পদ্মফুলের এলাকাটা নৌকায় ঘুরিয়ে দেখাতে ভাড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা লাগে। ছোট নৌকাগুলোতে ধারণ ক্ষমতা ২-৩ জনের। মনে রাখবেন এই বিলের আশেপাশে ভালো কোনো দোকানপাট বা খাবার হোটেল নেই। তাই ভ্রমণ করতে গেলে সঙ্গে করেই খাবার ও পানীয় নিয়ে যাবেন। সুত্র ছবি: বাংলা নিউজ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.