নিউজ ডেস্ক।।
শুরুটা ছিল বেশ ঘটা করে। উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে করা হয় শুভেচ্ছা দূত। বিচারক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশ, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, গৃহিণী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট গ্রুপ ধরা হয়। নেওয়া হয় পাঁচ বছরের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উদ্দেশ্য, দেশজুড়ে বিনিয়োগ শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া। সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর, পুঁজিবাজারে কিভাবে বিনিয়োগ করতে তার শিক্ষা সবার মাঝে তুলে ধরা।
২০১৭ সালে শুরু হলেও থমকে গেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দেশজুড়ে এই আর্থিক স্বাক্ষরতা কর্মসূচিটি। ২০২০-২১ অর্থবছরে কর্মসূচিটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শুরুর পরই তা গতি হারিয়েছে।
মূলত উচ্চপদে বড় রদবদলের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই আর্থিক কর্মসূচি গতি হারায়। আগের কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় চলতি বছর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামকে। কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পুঁজিবাজারকে ঢেলে সাজাচ্ছেন।
মানুষের কাছে বিনিয়োগ শিক্ষা পৌঁছে দিতে ২০১৭ সালে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম হাতে নেয় বিএসইসি। ওই বছরের ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা কনফারেন্স আয়োজন করা হয়। সর্বশেষে ২০১৮ সালের ৩ মার্চ বরিশালে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে আর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারে শিক্ষিত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম। ছোট ছোট পুঁজি নিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন। আর্থিক বিষয়ে শিক্ষা না থাকায় বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে হুজুগে বিনিয়োগ করেন। আবার স্বাভাবিক নিয়মে পতন হলেও হুজুগে বিক্রি করায় অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে পুঁজিবাজার। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে দেশজুড়ে বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষকে বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করা, অর্থের ভূমিকা, সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা, সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর ও বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বিষয়ে জ্ঞান দিতে পাঁচ বছরমেয়াদি বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নেওয়া ওই কর্মসূচিতে টার্গেট গ্রুপ ঠিক করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নানা কারণে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি গতি পায়নি। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর জমে থাকা অনেক কাজ করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচির দিকে এখনো মনোযোগ দিতে পারিনি। তবে আমরা বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত বিনিয়োগকারী বাজারে আসার ওপর জোর দিচ্ছি। বাজার স্থিতিশীলতায় আর্থিক শিক্ষায় শিক্ষিত বিনিয়োগকারী খুব প্রয়োজন। নতুন উদ্যমে দেশজুড়ে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
