এইমাত্র পাওয়া

মাল্টা চাষে সফল বারিউল

যশোরের চৌগাছায় মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া এক সফল যুবকের নাম বারিউল ইসলাম (২৮)। তিনি উপজেলার আজমত গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে সরকারি প্রণোদনার ৫৯টি মাল্টার চারা দেয়া হয় শিক্ষিত বেকার যুবক বারিউল ইসলামকে। তিনি মাত্র এই ৫৯টি মাল্টা চারা ব্যবহার করে একজন সফল মালটা চাষী ও উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। তাকে দেখে এলাকার অনেক যুবক আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপারে উৎসাহ পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বারিউল জানান, ২০১৭ সালে বিনামূল্যে উপজেলার কৃষি অফিস থেকে ৫৯টি মাল্টা চারা পান। চারাগুলো নিজের দশ কাঠা জমিতে রোপণ করেন। এলাকায় মাল্টার চারার চাহিদার কথা চিন্তা করে তিনি নিজ বাগানের মাল্টা গাছ থেকে কলমের মাধ্যমে নার্সারি তৈরি করেন। একই সাথে তার নার্সারিতে মাল্টা ও কমলাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলদ বৃক্ষের চারা তৈরি করেন। তার বাগানে মাল্টা ধরা শুরু করলে এলাকায় মাল্টা চারার ব্যাপক চাহিদা শুরু হয়।

তিনি জানান, প্রথম বছর মাল্টা বিক্রি করে তেমন একটা অর্থ উপার্জন না হলেও মাল্টার চারা বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেন। চলতি মৌসুমে তিনি আরো তিন-চার লাখ টাকার চারা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বারিউল বলেন, আমার সব সফলতা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে। কারণ তারা যদি চারাগুলো আমাকে বিনামূল্যে না দিত তাহলে হয়ত আমি মাল্টা চাষই করতাম না। তার কাছ থেকে মাল্টা ও কমলার চারা কিনে এলাকার শিক্ষিত যুবক বাবলুর রহমান, মেহেদী হাসান, রবিউল ইসলাম, আনিছুর রহমান, আবু সাঈদসহ অনেকেই চাষ শুরু করেছেন। বারিউল নিজে আরো এক বিঘা জমিতে নতুন মাল্টা বাগান করেছেন। তার বাগানের গাছে প্রচুর মাল্টা ধরেছে। চলতি মৌসুমে মালটা বিক্রি করে তিনি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পাবেন। তার মাল্টা চাষের খবর পেয়ে অনেকে দূর থেকে বাগান দেখতে আসছেন অনেকে। বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই তার কাছ থেকে চারা কিনছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, এখানকার মাটি, আবহাওয়া আর পরিবেশ অনুকূলে থাকায় সরকারি সহযোগিতায় কৃষকরা চাষাবাদে যেমন এনেছেন রকমারি, তেমনি এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর আবাদ উদ্ভাবনে। উপজেলায় এখন প্রায় দশ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে। তরুণরা এই মাল্টা চাষকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.