এইমাত্র পাওয়া

অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ভূমিকা রাখতে পারে ক্ষুদ্র ঋণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্ব এখনও টালমাটাল। ছোঁয়াচে এ ভাইরাস এ পর্যন্ত প্রায় ২১৩টি দেশে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটিয়েছে; কিন্তু সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব না হওয়ায় সংক্রমণের সংখ্যা এখন ২ কোটির ওপরে।

এর মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ৭ লাখেরও বেশি মানুষের। বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের ছোবলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে বানের জলের মতো।

করোনাভাইরাস যে শুধু মৃত্যু ডেকে আনছে তা-ই নয়, এটি দেশে দেশে অর্থনীতির চাকাকেও রুদ্ধ করে দিয়েছে। স্থবির করে দিয়েছে জনজীবন ও উৎপাদনের প্রায় সব প্রক্রিয়া।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের সব রাষ্ট্রেই নানা ধরনের উদ্যোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থা বা লকডাউন অন্যতম। বাংলাদেশে দুই মাসের বেশি সাধারণ ছুটির সময় অবরুদ্ধ অবস্থা কার্যকর ছিল। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা সব বন্ধ ছিল।

এতে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়ে। রফতানি খাত, বিশেষ করে গার্মেন্ট খাত বন্ধ হয়ে পড়ায় একদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক চাহিদা বাতিল হতে থাকে, অন্যদিকে লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে বিদেশে রফতানি চালু রাখতে সীমিত আকারে গার্মেন্ট খুলে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

লকডাউন মুহূর্তে সাধারণ ছুটির মধ্যে এক মাস জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বন্ধ ছিল। গত দুই মাসে বেকার হয়ে গেছেন কয়েক লাখ শ্রমজীবী মানুষ।

রফতানি আয় ও বৈদেশিক রেমিটেন্সের পরিমাণ অনেক কমেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ প্রায়। কিছু দোকানপাট ও হাট-বাজার ছাড়া কার্যত সব বন্ধ ছিল।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছে।

বাংলাদেশ গত ক’বছর ধরেই প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করা হয়েছিল এ ধারা অব্যাহত থাকবে; কিন্তু করোনার কারণে এ হার অনেক কমে যাবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এডিবি বলছে, করোনার কারণে বাংলাদেশের জিডিপির শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।

এডিবি আরও বলেছে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৪ থেকে ৩৭ লাখ মানুষ বেকার হতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আইএমএফ বলছে, ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে। করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। উৎপাদন খাত, বিশেষ করে রফতানিমুখী তৈরি পোশাকের চাহিদা বিশ্বব্যাপী কমে যাবে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাতের পণ্যের চাহিদাও কমবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ঝুঁকি তৈরি করবে। এতে নগর দারিদ্র্য বাড়বে। আবার পল্লী এলাকায় গরিবের সংখ্যাও বাড়বে।

এমন অবস্থায় কোভিড-১৯-এর ঝুঁকি কমানো এবং আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতার ঝুঁকি কমাতে অর্থনীতিতে মধ্যমেয়াদি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি নেয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

তাদের এসব মূল্যায়নের আলোকে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের উচিত একটা রোডম্যাপ আঁকা। সেক্ষেত্রে প্রথমেই নজর দিতে হবে কৃষি অর্থনীতি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করার ওপর।

দেশের কৃষি খাতের, বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদনসহ কৃষি উন্নয়নের ব্যাপক উন্নতি হওয়ার কারণেই দেশ আজ দারিদ্র্য কমাতে পারছে। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের জনসংখ্যা মাত্র ৪ কোটি হলেও প্রায় ২ কোটি মানুষকেই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হতো।

তখনকার সময়ে রাজনৈতিক নেতারা তাদের ভাষণে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের সংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিতেন। তখনকার পরিস্থিতি এমন ছিল যে, শহর ও গ্রামের দরিদ্র মানুষকে বছরে একটা-দুটো পরিধেয় লুঙ্গি ও শাড়ি জোগাড় করতেও গলদঘর্ম হতে হতো।

১৯৬৯-৭০ সালেও দেখেছি গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন গৃহস্থদের বাড়িতে বছর ভিত্তিতে ‘কামলা’ (বার্ষিক শ্রমিক) রাখা হতো- বেতন হতো বছরে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। ১০০ টাকার কামলার সম্মান ছিল আলাদা- তাকে নিয়ে অন্যরা ঈর্ষা করত। তাদের বছরে ২-৩টি লুঙ্গি দেয়া হবে- সেটিও উল্লেখ থাকত। তখন মানুষের দারিদ্র্য ছিল ভীষণ। স্বাধীনতার পরও বেশ ক’বছর মানুষ কঠিন দারিদ্র্যের শিকার ছিল।

স্বাধীনতার পরও দেশে অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মূল কারণ ছিল খাদ্য সংকট। পরবর্তী সময়ে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলতে থাকে, অর্জিত হয় সাফল্য।

ফলে একই পরিমাণ জমিতে অধিক ফসল-একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় বাংলাদেশ খাদ্য সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। বলা যায়, বাংলাদেশ এখন খাদ্যের দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটি বাংলাদেশের জন্য বিশাল সাফল্য।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৫০ বছর। সে হিসেবে দেশের অর্থনীতি যতটা শক্ত-সামর্থ্য থাকার কথা ছিল, তা হয়নি। তবে আশার কথা, গত দু’দশকে দেশের অর্থনীতিতে একটি বিপ্লব হয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দরিদ্র অর্থনীতির উত্তরণ ঘটিয়ে নিু-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

এ উন্নয়নের পেছনে গার্মেন্ট ও বৈদেশিক রেমিটেন্সের পাশাপাশি যে খাতটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তা হচ্ছে এনজিও ও এমএফআইয়ের ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা।

দেশব্যাপী প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় ৩ কোটি দরিদ্র, হতদরিদ্র ও নিুআয়ের মানুষকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করেছে। এ ক্ষুদ্র ঋণপ্রাপ্ত পরিবারগুলো উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যেমন হাঁস-মুরগির ফার্ম, ডেইরি ফার্ম, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, সবজি বাগান, মাছ চাষ, দোকান ইত্যাদি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করে নিজেরাও যেমন স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে, তেমনই দেশজ উৎপাদনেও সহায়কশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ফলে যেসব পরিবার দরিদ্র ও হতদরিদ্র ছিল তাদের এক বিশাল অংশেরই দারিদ্র্য নিরসন হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি কেউ কেউ অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি ও মহাজনি ঋণগ্রস্ত হাত স্বাবলম্বী কর্মীর হাতে পরিণত হয়েছে।

এভাবেই দেশজ উৎপাদন ও দারিদ্র্যের হার কমে যাওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতার ছেড়ে নিু-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে ব্র্যাকসহ বেশকিছু এনজিও মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করত। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও নারী-পুরুষ বৈষম্য অবসানের আশ্বাস ইত্যাদি বিষয়ই ছিল মুখ্য।

স্বাধীনতার শুরুতে ব্র্যাক ও পরে আশির দশকের দিকে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকসহ এনজিওগুলো ক্ষুদ্র ঋণের সূচনা করে। এতে করে ব্যাংকের ঋণ বঞ্চিত বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ, বিশেষ করে নারীরা ব্র্যাক, আশা ও ব্যুরো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নেয়ার সুযোগ পায়।

এ ঋণে তারা হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও মাছ চাষসহ সবজি উৎপাদন করে নিজেরাই শুধু স্বাবলম্বী হয়নি, দেশের জাতীয় উৎপাদনেও নিজেদের অর্থনৈতিক শক্তিকে যুক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, দেশের সব মানুষের, বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে হাতের কাছে ব্যাংক না থাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ কম। ১০ টাকায় খোলা হিসাবগুলো লেনদেনের অভাবে প্রায়ই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫০ শতাংশের ব্যাংক হিসাব রয়েছে। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে এ হার ২৫ শতাংশের ওপরে নয়।

নারীদের ক্ষেত্রে এ হার আরও কম। ২১ দশমিক ২ শতাংশ জনগণ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত। ৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয় রয়েছে এবং ঋণ রয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ ব্যক্তির।

ব্যাংকগুলোর গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নেটওয়ার্ক না থাকায় দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী ব্যাংকে সঞ্চয় ও ঋণ থেকে বঞ্চিত। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এটি বাস্তব সত্য যে, এমএফআই খাতের দেড় লাখ কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণে প্রায় ৩ কোটি মানুষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করছে। তারা শুধু আর্থিকভাবেই দারিদ্র্য দূর করেনি, তারা এখন সামাজিক সচেতনতার বেষ্টনীতেও অবস্থান করছে। তারা পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানের শিক্ষা, নিরাপদ পানি ও শৌচাগার ব্যবহারে সচেতন হয়েছে।

নিজেরা সামাজিকভাবে মর্যাদার অধিকারী হয়েছে। সর্বোপরি আর্থিক সচ্ছলতা তাদের ‘মানুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে এবং সবই সম্ভব হয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে।

এভাবেই বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ ক্রমাগত সামনের দিকে এগোচ্ছিল। বাংলাদেশের জিডিপির মোট দেশীয় উৎপাদন হার ক’বছর ধরে ৭ থেকে প্রায় ৮ শতাংশ হচ্ছিল। কিন্তু করোনার আঘাতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ায় এ বছর এবং পরবর্তী কয়েক বছর এ ধকল সামলাতে হবে। এতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতি বোদ্ধারা। সেক্ষেত্রে এ ধস ঠেকাতে সরকারকে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এক সময় বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হলেও এখন এর বেশ পরিবর্তন ঘটেছে। শিল্পায়নের ফলে কৃষিনির্ভরতা অনেক কমলেও দেশের বার্ষিক জিডিপিতে এখনও এ খাতের অবদান প্রায় ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এ খাতে দেশের প্রায় ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ জনগণ সম্পৃক্ত। তবে এ কৃষকের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। প্রয়োজনীয় সার-বীজ-কীটনাশক ব্যবহার না করতে পারায় ফসল উৎপাদনের পরিমাণ উৎপাদন পর্যায়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম হয়। অনেক কৃষককেই এজন্য মহাজনের কাছ থেকে টাকা ঋণ নিয়ে উৎপাদিত পণ্য বন্ধক দিতে বাধ্য হতে হতো।

এ কৃষক শ্রেণিকে ব্যাংক ও এমএফআই খাত ঋণ সহায়তা প্রদান করায় এ অবস্থা থেকে তাদের বেশ উত্তরণ ঘটেছে এবং দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। নিকট অতীতেও দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশের ওপরে। বর্তমানে এ হার নেমে এসেছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশে।

কিন্তু করোনার আঘাতে দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দারিদ্র্যের হার আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, এ হার এ বছর প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্মের এক মতামত জরিপে উঠে এসেছে, করোনা সংকটে জেলা পর্যায়ে কাজ করা ৯০ শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সম্পদের অপ্রতুলতা আছে। এসব সংস্থা আর্থিক সংকটে পড়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ এনজিও’র নিজস্ব উপার্জনের উৎস আছে। এ উপার্জনের ৫০ শতাংশই আসে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম থেকে। অধিকাংশ এনজিও জানিয়েছে, তারা আর্থিক সংকটসহ নানা ঝুঁকির মধ্যে আছে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, জাতীয় যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুহূর্তে দেশের অন্যান্য আর্থিক খাতের মতো এমএফআই ও এনজিও সেক্টরও দুর্যোগ মোকাবেলায় অর্থসহ নানা সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করে।

একথা নিশ্চিত করে বলা যায়, এমএফআই ও এনজিও সেক্টর জাতীয় উন্নয়নের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গই যেমন শরীরের জন্য জরুরি, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক শৃঙ্খলা, বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এনজিও খাতের গুরুত্বও অপরিসীম।

স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘ব্র্যাক’ যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সূচনা ঘটিয়েছিল, এনজিও ও এমএফআই সেক্টর সেই ধারাকে অব্যাহত রেখেছে বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের সিঁড়িতে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।

যেহেতু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর এমএফআই ও এনজিও সেক্টর করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং দারিদ্র্য নিরসনের জন্য দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান অনেকটাই অসমর্থ অবস্থার শিকার, সেহেতু জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করার স্বার্থেই এ সেক্টরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ২৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন ঋণ প্রদান করা প্রয়োজন।

কারণ, এ সেক্টর সুরক্ষা পেলে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্রমান্বয়ে পরিণত হবে অর্থনৈতিক শক্তিতে এবং সমস্যা কাটিয়ে বাংলাদেশ পাবে উন্নত দেশের মর্যাদা।

ফেরদৌস সালাম : সাবেক ব্যাংকার, ব্যুরো বাংলাদেশে কর্মরত


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.