করোনা জয়ী এক জেলা প্রশাসকের করোনা জয়ের কাহিনী।

বিন-ই-আমিনঃঃ
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় যখন পুরো পৃথিবী লক ডাউন বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকেই ধীরে ধীরে সে সংখ্যা বেড়ে আজ লক্ষের কোটায়।
মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। করোনার মরণথাবায় সরকারের মন্ত্রী,এমপি,আমলা থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীও রক্ষা পায়নি। কোভিড-১৯ নামক ভয়ংকরী এই ভাইরাসের কারনে সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশও ধরাশয়ী। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে চিকিৎসক ছাড়াও সরাসরি কাজ করছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।
দায়িত্ব পালনকালে জীবনদানকারী   চিকিৎসক,পুলিশ,সেনাবাহিনীর সদস্য সহ সরাসরি অংশগ্রহণ করা সিভিল প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লোকজনও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিদিন। আজও আক্রান্ত ৪ হাজারের বেশি। করোনা পজিটিভ থেকে করোনা নেগেটিভ হওয়া এমনই এক সম্মুখ যোদ্ধার কাহিনি তুলে ধরবো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো.মনিরুজ্জামান তালুকদার এর কাছ থেকে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুরের এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। ডাক নাম “খোকন”। ২১তম বিসিএস প্রশাসনে চাকরীর আগে তিনি পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ২০তম বিসিএসে বরগুনার জেলা সমবায় অফিসার হিসেবে চাকরি করেন। মেহেরপুরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে বর্তমান চাকরী জীবনের শুরু। চরফ্যাশনের সহকারী কমিশনার ভূমি,মূলাদীর নির্বাহী অফিসার,বরিশাল সিটি করপোরেশনের সফল ও জননন্দিত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ এর একান্ত সচিব , পিরোজপুর ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  থেকে দুদক চেয়ারম্যান এর একান্ত সচিবের পরই মুন্সিগঞ্জের ডিসি হিসেবে পদায়ন। করোনাকালে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কর্মহীন দরিদ্র ও অসহায়ের মাঝে সরাসরি মানবিক সাহায্য প্রদান, করোনা ঝুকি থাকার পরও বেধে সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৪ মে ২০২০খ্রি. জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ২৭ জন কর্মকর্তা- কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
১৭ মে করোনা পজিটিভ আসার পরই সরকারি বাসভবনে ২০ দিনের কোয়ারান্টাইনে চলে যান জেলা প্রশাসক। কোয়ারান্টাইনে থেকেও জরুরি কাজকর্ম অনলাইন ও ফোনের মাধ্যমে সম্পাদন করেন। করোনাজয়ী এ প্রশাসক মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া ও সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার করোনাকালীন অনুভূতির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে জনগণের ভুল ধারণা  ও অসচেতনতার কথা তুলে ধরেন। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সদাচরণ করার অনুরোধ জানান। মৃত ব্যক্তির সাথেও যথাযথ আচরণ করার কথা বলেন। করোনাকালে সকলের সহযোগিতায় সরকার নির্দেশিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা জানান তিনি। জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি,স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ সহ বৈশ্বিক এ মহামারিতে সবাইকে নিরাপদ ও সামাজিক দুরত্ব মেনে সরকারী নির্দেশনা পালন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সকল পরামর্শ মেনে চলার কথাও বলেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয় তুলে ধরেন। শিক্ষকদের অনলাইনের উপর দক্ষতা অর্জন করে বিভিন্ন অনলাইন সফট ওয়ারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার করে করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলাবাসী সহ তার নিজ জেলা ও সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.