এইমাত্র পাওয়া

একজন নিবৃত্তচারী বুদ্ধিজীবী

আনিস মালিক ।।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ’র সাথে যখন কথা হলো তখন রাত সাড়ে ১০ টা। বেশ কিছুক্ষন কথা বলার পর জানতে পারলাম সত্তরোর্ধ এই ইতিহাসবিদ বর্তমানে ভয়াবহ অতিমারি করোনা কালে একাকী জীবন যাপন করছেন এক ধরনের আইসোলেটেড হয়ে নিজ ফ্লাটে। বছরের শুরুতে স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় মেয়ের সন্তান (নাতি) হয়েছে তা দেখতে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারেননি করোনাভাইরাসের জন্য ফ্লাইট চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে। ছেলে মেয়েরা দেশের বাহিরে থাকায় একজন অফিস সহকারী নিয়ে বাসায় বসেই এখন অফিসের যাবতীয় কাজ করছেন।

আমার ব্যক্তিগত খোজ খবর নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থাকা অবস্থায় ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের অনেক বিষয় সম্পর্কে স্মৃতিচারনা করলেন। জানালেন, তিনি এ যুগের কোন ভার্চুয়াল জগতে নেই। কোন স্মার্টফোনও ব্যবহার করেন না। মানুষের সামনে জীবনকে খুব সহজ ভাবে উপস্থাপন করেন এখনো যা তিনি উপভোগ করেন। এরকম একজন সহজ সরল উদ‍্যমী ও প্রকৃত নীতি আদর্শবান মানুষ আজ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায়ও এদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বৈশ্বিকভাবে পিছিয়ে। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর এমন একজন অভিভাবক থাকতে প্রত্যেকটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক উপড়ের সারিতে চলে যাবার কথা। আশ্চর্যের যে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মান ও গুনগত তেমন কোন পরিবর্তনই লক্ষ্য করা যায় না।

বুদ্ধিজীবী মহলে কাজী স্যার নামে পরিচিত এই বিনয়ী অধ্যাপক শিক্ষা জীবনে কখনো দ্বিতীয় হয়েছেন ! তা বিরল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে কানাডায় ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেছিলেন। ২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছেন এবং ২২ মে ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

যখন জানলেন, পরবর্তীতে আমি সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করার সময়ে তার এক সময়ের সহকর্মী স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, অধ্যাপক মো. গোলাম রহমান স্যারের ছাত্র ছিলাম। তিনি বললেন, অসাধারন কিছু মেধাবী আর নামী শিক্ষক পেয়েছো, “তুমি অনেক ভাগ্যবান।”

সত্যিই, ছাত্রজীবনে আমি ভাগ্যবানই বটে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টানা তিনবার কলা অনুষদের ডিন থাকাকালীন গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের গবেষনা দলের সাথে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক তত্ত্বের গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবে সুনাম অর্জন করেছেন।

তিনি বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতার আপনজন হলেও কোনদিন সেই পরিচয়কে সামনে আনেন নি। তিনি বেশ কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ইরান, পাকিস্তান এবং নেপালসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে বক্তব্য রেখেছেন। শিক্ষার নব জাগরণে কাজ করে চলেছেন নিরবে নিবৃত্তে।

লেখক-লেখক ও সাংবাদিক


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.