এইমাত্র পাওয়া

ফেসবুকে ফসলের চেয়ে আগাছা বেশি: আসিফ

নিউজ ডেস্ক।।

বহুবার বলেছি ফ্যানদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই ফেসবুকে আসা। আমার আইডি পেইজে লেখালেখি করি অনেকে পছন্দ করে বলে। তাছাড়া আমার ওয়ালে আমি কি লিখবো এটা আমার ইচ্ছা। স্বভাবগত ভাবে আমি বেয়াদব সহ্য করতে পারি না। বেয়াদবী সহ্য করা আমার জন্য অসম্ভব। যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো তর্কবাগীশকে আমি ফুটো পয়সার মূল্য দেই না।

ফেসবুক আসার পর ওপেন প্লাটফর্মে মনুষ্য আকৃতির বঙ্গপালে ভরে গেছে। দেখা গেছে, স্কুলের গন্ডি পার হয়নি সমালোচনা করছে একজন শিক্ষকের। ধর্ম সম্বন্ধে সঠিক কোনো ধারণা নাই, হয়ে গেছে ধর্ম বিশেষজ্ঞ, যখন তখন দোজখ বেহেস্তে পাঠিয়ে দিচ্ছে ভায়া ফেসবুক।

সাধারন জ্ঞানের উপর কোনো ধারণা নেই, মন্তব্যে আছে ব্যাপক পান্ডিত্য। একজন গুনী মানুষের মন্তব্যের এগেইনস্টে তর্ক করছে একটা গন্ডমূর্খ পাঠা। শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আবদুল হাদী ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ফেসবুক কেন ইউজ করেন না, তিনি বলেছেন- ওখানে ন্যুইসেন্স বেশি। উনার তুলনায় কম বয়সী হওয়ায় আমি ফেসবুক চালাই কমান্ডো স্টাইলে।

কৃষাণ কৃষাণীর মন ভরে যায় দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ দেখে। এজন্য বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রানান্ত পরিশ্রম করেন তারা। তাদের সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনার কাব্য রচিত জমির ফসলকে ঘিরেই। বন্যা খরা অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি তাদের সুখের দূর্গে মাঝে মাঝে হানা দিয়ে স্তব্ধ করে দিতে চায়। তারা দমে যায় না, পরের বছর আবার পূর্নোদ্যমে শুরু করে সেই একই কাজ।

ফসল ঘরে তোলার মাঝখানে জমিতে বেড়ে ওঠে আগাছা, নিড়ানী দিয়ে সেই আগাছা উপড়ে ফেলেই শুরু হয় স্বপ্ন বোনার কাজ। প্রত্যেকটা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেই আগাছা নিধন ছাড়া সফলতা অর্জন করা যায় না।তবে এদেশে ফেসবুকে ফসলের চেয়ে আগাছাই বেশি। এগুলা হচ্ছে অকর্মন্য ধইঞ্চ্যা, এদের পুড়িয়েই নিঃশেষ করতে হয়।

শুরু থেকেই পেইজের ওপর কঠোর নজরদারী রয়েছে আমার।এখান থেকে মন্তব্য দেখে সিলেক্ট করে আমার নিজস্ব আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই।আমি ইচ্ছে করে মাঝেমাঝে কিছু সাংঘর্ষিক পোস্ট দেই, যেখানে ফেসবুক বঙ্গপালেরা বিষয়বস্তু না বুঝেই হামলে পড়ে। হাতে খুব সময় না থাকলে আমি ঐ ধরনের পোস্ট দেই না। কারণ পেইজে শৃংঙ্খলা থাকে না।আমিও মনের সুখে ঐ আগাছা গুলোকে ব্লক মারতে থাকি। আমার পেইজ এ কারনে সবচেয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কৃষাণীর ফসলের মাঠের মত।

এমনকি আগাছাগুলোর সাথে আমার বন্ধুতালিকার কারো সংযোগ থাকলে তাকেও বহিষ্কার করে দেই। আমার গুরু শুরুতেই বলেছেন- যতদিন খাওয়াতে পারবা ততদিন ভালো থাকবা, একবার শর্ট পড়লেই খারাপ হয়ে যাবা। অর্থাৎ বাইচ্ছা চললে বাইচ্চা থাকবা, বাইচ্ছা খাইলে ভালো থাকবা।সবার মন মত চলা সবার পক্ষেই অসম্ভব। আর জ্ঞানপাপী মূর্খের সাথে চলা তো রীতিমতো আত্মহত্যার শামিল।

ভালবাসা অবিরাম…

লেথক: আসিফ আকবর, কণ্ঠশিল্পী


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.