এইমাত্র পাওয়া

করোনায় হুমকিতে নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন

নিউজ ডেস্কঃ
করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। অর্থনৈতিক সংকটে ঝরে পড়তে পারে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরও অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টিউশন, সেমিস্টার ফি মওকুফ করে দিলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মেস কিংবা বাসায় বসবাসরত শিক্ষার্থীদের বকেয়া বিলসহ পরবর্তী খরচ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন শেষ করা পর্যন্ত প্রণোদনা শিক্ষাবৃত্তি বা বিনা জামানত ও সুদে শিক্ষা ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা।

জানা যায়, দেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর সবাই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসা বা মেসে থাকেন। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঢাকায় টিউশনি, পার্টটাইম জব, ব্যবসা করে নিজের পড়ালেখা ও থাকা-খাওয়ার খরচ চালান এবং পরিবারকেও সহযোগিতা করেন। করোনাকালে এসব শিক্ষার্থীর উপার্জনের পথ বন্ধ হলেও বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বন্ধ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি ও বিভিন্ন বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে আপৎকালীন মুহূর্তে সাহায্য করলেও বাসা ভাড়ার টাকা বকেয়া। বাড়িওয়ালারা বাসা ভাড়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিলেও বকেয়া বাড়ছে এসব শিক্ষার্থীর; আবার ক্যাম্পাস খুললেও নতুন করে টিউশন, পার্টটাইম চাকরি, ব্যবসার পুঁজি- কোনো কিছুরই নিশ্চয়তা নেই। ফলে এসব শিক্ষার্থীর রাজধানীতে বসবাস করে ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন অন্ধকারে। এ সমস্যা শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নয়, রাজধানীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮টি হলে প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ শিক্ষার্থী বসবাস করেন। এর বাইরের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় ভাড়া বাসায় বা মেসে থাকেন। এ ছাড়া ঢাকার অন্যান্য ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ, তিতুমীর সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ঢাকায় ভাড়া বাসা বা মেসে থাকেন। এদের অনেকেই নিজের খরচ নিজেই উপার্জন করেন, পরে এসব উপার্জনের পথের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, ‘করোনা সংকট মোকাবিলায় সামাজিক সুরক্ষায় বর্ধিত বাজেটে ব্যয় করা হবে। এই সামাজিক সুরক্ষার টার্গেট গ্রুপে শ্রমিক আছে, কৃষক আছে, দরিদ্র লোক আছে। এদের মধ্যে যারা টিউশন বা অন্যান্য কাজ করে পড়াশোনা চালায়, তারাও আছে। এসব শিক্ষার্থীর বিনা সুদে ও বিনা জামানতে ঋণ দিতে হবে। পরে তারা সে টাকা শোধ করবে। এখানে জামানত হিসেবে শিক্ষার্থীদের যে কোনো একটি সার্টিফিকেটও জমা নেওয়া যেতে পারে। অথবা সরকার যেমন ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে মাসিক ২৫০০ করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে তেমন করে এসব অসচ্ছল শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে রাখতে তিন-চার মাস আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিজেদের খরচ নিজেরাই চালিয়ে আবার অনেকে বাড়িতে টাকা পাঠায়। করোনা সংকটের কারণে পার্টটাইম চাকরি, টিউশনির সব পথ বন্ধ। আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের উপার্জন পথ চালু হওয়াটা সহজ হবে না। এ ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেমিস্টার ফি, টিউশন ফি মওকুফ করলেও তাদের থাকা-খাওয়ার জন্য অর্থ সংকটে পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার চাইলে তাদের বিনা সুদে শিক্ষা ঋণও দিতে পারে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম ফারুক সরকার বলেন, ‘আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের কাণ্ডারি। তাদের পড়াশোনা যেন কোনোভাবে থেমে না যায়। এসব নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে রাখতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।’ সূত্রঃ সমকাল


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading