ফ্যাক্টরিতে যাইতে কইছে; পরিবহন বন্ধ তাই কি। কাম না করলে পেটে ভাত যাইব না। ঈদ শেষ বাড়ি বইসা থাকলে না খাইয়া মরুন লাগব। পোলাপানের পড়ালেখাও বন্ধ হইয়া গেছে। সবই তো খুইলা গেছে পরিবহন খুলা থাকলে কম টেকায় যাইতে পারতাম। এমনটাই বলছিলেন ফরিদপুর থেকে আসা গার্মেন্টসকর্মী পারভীন আক্তার।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। চাপ বাড়ছে আরিচা-পাটুরিয়া ফেরী ঘাটে। পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং ভাঙ্গনে পাটুরিয়া ঘাটের পন্টুনের প্রবেশদ্বার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু মাত্র একটি ফেরী ঘাট সচল আছে এই একটি ঘাট দিয়েই ফেরী চলাচল করছে।
গতকাল (২৮ মে) থেকে একটি মাত্র ঘাট সচল থাকায় ঘাটে এসে যাত্রী এবং পরিবহনসহ বোঝাই ফেরীকে ১০-২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে আনলোড করার জন্য। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা।
কোন প্রকার সামাজিক দুরত্ব মানতে দেখা যায়নি যাত্রীদের। প্রশাসন কিংবা বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি কোন প্রকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
ফরিদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ব্যবসায়ী হাসেম উদ্দিন বলেন, ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত মোটরসাইকেলে এসেছি ৪গুন বেশি ভাড়া দিয়ে। এপারেও একই ব্যবস্থা দেখছি। প্রাইভেটকারে গাবতলি পর্যন্ত জনপ্রতি ৬শ টাকা চাচ্ছে। কোন উপায় নেই এতেই যেতে হবে।
শুক্রবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দুটি ফেরী ঘাট বন্ধ হওয়ায় ব্যক্তিগত এবং মালবাহী গাড়ী ফেরীতে উঠতে ধরেছেন দীর্ঘ সাড়ি। আটকে পড়ছেন ৩-৫ ঘণ্টার সিরিয়ালে। গতকাল থেকে ৪নং এবং ৫নং ঘাটের পন্টুন পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন পাড় হতে পারছে না। শুধুমাত্র একটি ঘাট সচল থাকায় অতিরিক্ত চাপ পরেছে ৩নং ফেরী ঘাটে।
পাটুরিয়া ঘাটে আটকে থাকা ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের ড্রাইভার সুদেব সাহা বলেন, ভেবেছিলাম এপাড়ে কোন সিরিয়াল পাব না সরাসরি ফেরীতে চড়তে পারব কিন্তু ঘাটের পন্টুন পানিতে ডুবে যাওয়ায় একটি ঘাট দিয়ে যাতায়াত হচ্ছে এজন্য চাপ পড়েছে। আমি ২ঘন্টা আগে ঘাটে এসেছি আমার সিরিয়াল আসতে আরো ১ ঘণ্টার মত লাগবে।
ঘাটে আটকে থাকা ট্রাক ড্রাইভার মোহন মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ভোর ৭টায় ঘাটে এসে পৌছায়। সবগুলো ঘাট ভাল থাকলে তিনি ঘন্টাখানেকের ভিতরেই সিরিয়াল ধরতে পারতেন। কিন্তু একটি মাত্র ঘাট দিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে মুঠোফোনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসির) আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ৪টি ফেরী ঘাট প্রস্তুত হয়েছে, ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি ফেরী চলছে।
তিনি বলেন, ফেরীতে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। মানুষ গাদাগাদিকরে উঠে পড়ছে। বিগত সময় পুলিশ কঠোর অবস্থানে ছিল এখন তাদের কার্যকর কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
