করোনার সম্মুখ যোদ্ধাদের সুরক্ষা

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম।।

বিশ্বজুড়ে মহামারী করোনায় প্রাণ হারাচ্ছে হাজার, লক্ষ মানুষ। আক্রান্ত অর্ধকোটিরও বেশী। দিন দিন আক্রান্ত ও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে আমাদের দেশেও। কবে এ দুর্যোগের শেষ হবে কেউ বলতে পারেনা। টিকা/ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কোন আশাব্যঞ্জক খবর নেই। এ পরিস্থিতিতে দেশে দেশে সতর্কতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে কীভাবে জীবনযাপন করা যায় তার উপায় খোঁজার চেষ্টা চলছে। আক্রান্তদের সুস্থতার জন্য যেমন চিকিৎসক, নার্সসহ সকলে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তেমনিভাবে করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে অন্যান্য বিভাগও যেমন, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা পেশার দায়িত্বশীল লোকজন তাদের সাধ্যের সকটুকু দিতে তৎপর রয়েছেন। বলা যায় করোনার সাথে যুদ্ধে তারা সকলে সম্মুখযোদ্ধা। তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আগে চাই। কারণ, তারা হেরে গেলে হেরে যাবে গোটা দেশ, গোটা বিশ্ব। ইতিমধ্যে করোনাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চিকিৎসকদের একটা উল্লেযোগ্য অংশ আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেছেন। পাশাপাশি অন্য পেশার বহু মানুষও আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন। যেটা খুবই দু:খজনক ও হতাশার খবর।

চিকিৎসক ও নার্সরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনারোগীদের চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন দিনরাত। অনেকে পরিবারের কাছে যেতে করতে পারেননা। পারেন না প্রিয় স্বামী, স্ত্রী, সন্তানের সাথে দেখা করতে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো করোনার মোকাবেলায় যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের কী অবস্থা তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মানছি এখানে চিকিৎসাক্ষেত্রে সুযোগসুবিধা অপ্রতুল কিন্তু চেষ্টায় গাফলতি করাও অনুচিত। সাধ্যের মধ্যে যা সম্ভব তার সকটুকু দিতে হবে। চিকিৎসক, নার্সদের পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত সুরক্ষা সামগ্রী দিতে হবে। কারণ, তারা এ যুদ্ধের একেবারে প্রথম সারির সৈনিক। তারা সুস্থ না থাকলে সুস্থ থাকবেনা দেশ ও দেশের মানুষ। ইতিমধ্যে অনেক অভিযোগ, অনুযোগ অনলাইন গণমাধ্যমসহ নানামাধ্যমে চাউর হয়েছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে বাস্তবতা এবং পরিকল্পনার সাথে রয়েছে বিস্তর ফারাক। এসব বিষয় পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারকে যেকোনভাবে চিকিৎসক, নার্সদের সুরক্ষা প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে শিল্পপতি ও বেসরকারি সব হাসপাতালকে। তবে ইমার্জেন্সি পিরিয়ড বিবেচনা করে দেশে ডাক্তার, নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের কর্মস্থলে যোগদানও করেছেন। প্রয়োজনে আরো নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা মাথায় রাখতে হবে। কারণ, করোনা এমন একটি ভাইরাস যার নিশ্চিহ্ন হবার কোন চান্স দেখা যাচ্ছেনা। গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থা করোনার পদানত।

পদস্থ কর্মকর্তাসহ সেনা ও পুলিশবাহিনীর বহু সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে অনেকের। তারাও কিন্তু মানুষকে করোনার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে করোনার শিকার হয়েছেন। মাঠপর্যায়ে তাদের তৎপরতার কারণে করোনার সংক্রমণ এতটুকুতে এসে ঠেকেছে। তাদেরও পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিকল্প ভাবার কোন অবকাশ নেই। যতদিন করোনা নিয়ন্ত্রণে আসছেনা ততদিন তারা বিশ্রামের কথা ভাবতে পারছেননা। করোনাযুদ্ধে অবদান তাদেরও কম নয়। কারণ, তারা রিক্স নিয়েই সম্মুখে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাদেরও অনেকে করোনাযুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন। তাদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদেরকেও মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হচ্ছে, মানুষের কাছাকাছি যেতে হচ্ছে। ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এভাবে যেসব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন করোনা প্রতিরোধে কাজ করে চলেছেন তাদেরকে কোনভাবেই খাটো করার কোন সুযোগ নেই। তাদেরকে সাহস ও উদ্দীপনা যোগাতে হবে। তারা যেন হতাশ না হন সেচেষ্টা আমাদের করে যেতে হবে। আমি মনে করি, এই দুর্যোগে তাদের সেবাপ্রদান ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। জাতি কখনো এই অবদান ভুলতে পারবেনা। তাই করোনার সম্মুখযুদ্ধের সৈনিকদের প্রয়োজনীয় রসদ জোগাড় করে দেওয়ার দায়িত্ব আমার, আপনার, সকলের।

তাদের প্রচেষ্টাকে সফল করতে হলে আমরা যারা সাধারণ জনগণ তাদর কিন্তু সতর্ক, সচেতন থাকতে হবে। করতে হবে সহযোগিতা। কারণ, একা এ যুদ্ধে জয়ী হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনই বিকল্প নেই।
‘করোনার সম্মুখযোদ্ধারা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা পাবে, জয়ী হবো আমরা এই যুদ্ধে’-এমন প্রত্যাশায় শেষ করছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুরক্ষিত রাখুন।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.