মো. মতলব হোসেন।।
মারাত্মক বেদনা বুকে নিয়ে আজ করোনার প্রাদুর্ভাবের এই কঠিন দুর্যোগ মুহূর্তে আমাদের শিক্ষা নিয়ে কিছু বলতে চাই। প্রথমেই আমি বলবো জীবনের জন্য শিক্ষা,শিক্ষার জন্য জীবন নয়।তবু সারা জীবন যে শিক্ষা সেবায় নিজকে শিক্ষা দানের পথে লক্ষ লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের মতো আমিও নিবেদিত আছি সেই শিক্ষাকে যেমন মুখ থুবড়ে থেমে থাকতে দিতে পারিনা তেমনি আমার সন্তানসম শিক্ষার্থীদের করোনা ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে আসার প্রস্তাবও করতে পারিনা।আমি জাতির জনকের জনদরদী রক্তসঞ্জাত মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার এদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা দেখে সত্যি মুগ্ধ।তিনি কোনভাবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে করোনার মুখোমুখি করতে চাননা।আমি ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে আমার শ্রদ্ধাকে শেষ করতে চাই না।আমি এ বিষয়ে ওনার সাথে একমত হয়ে বর্তমান দুঃসময়ে শিক্ষা প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু বলতে চাই
আজ আমরা দেশের সব শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের বর্তমান শিক্ষা সেশন নিয়ে চিন্তিত। অনেকে বলছে শুনছি যে, করোনা যাবে না।করোনার মধ্যে আমাদের কঠিন মরণপণ লড়াই করেই বাঁচতে হবে।আমি এ কথা বিশ্বাস করতে চাই না।করোনা আক্রান্ত রোগী যদি না পাওয়া যায় তবে করোনা থাকবে কোত্থেকে? কারণ,করোনা ভাইরাস তো এখানে জন্ম নিচ্ছে না।তাই করোনা ব্যবস্থাপনা যথাযথ হলে ইনশাল্লাহ করোনা থাকবেনা আমাদের দেশে।আমি স্পষ্টই বলতে চাই,বাঙালি আমরা তো সহজে কোনকিছু মানিনা,মানাতে হয়।লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন সব ব্যর্থ হচ্ছে ১৪৪ ধারার মত কঠোর না হওয়ার কারণে।আমি অনুরোধ করবো কলকাতার মত আর দুসপ্তাহ শুধু রাজধানী ও আক্রান্ত এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একবার মমতাময়ী রুপের পরিবর্তে লৌহকঠিন রুপে কারফিউর মত কঠিন কিছু করার জন্য।তবে এদেশে আর কিছু করতে হবেনা যদি আবার বাইরে থেকে রোগী না আসে।
আমি শিক্ষা নিয়ে বলতে চেয়েছিলাম।তাই বলি, আমরা শিক্ষক শিক্ষার্থী এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না আসতে পারলেও অসুবিধা নেই।যে মুবাইল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য ছিলো অন্তরায় তা হবে এখন শিক্ষার প্রধান মাধ্যম।আমি বিগত দু মাস আমার কলেজের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস চালিয়ে দেখেছি যে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের প্রচেষ্টা সত্যি কার্যকর হয়ে উঠেছে।যেখানে শিক্ষকগণ ভালোভাবে টাচ মুবাইল চালাতে পারতোনা তারা এখন ক্লাস লেকচার ভিডিও বানিয়ে নেটে আপলোড করতে পারে।শিক্ষার্থীরাও শুধু ফেসবুক নয়,পড়াশুনায় নেটকে কাজে লাগাচ্ছে দারুন আগ্রহ নিয়ে।এ সময়টা আমরা সরকার নির্দেশনা দিলেই সিলেবাস সাজিয়ে ক্লাস সহ অনলাইন পরীক্ষাও নিতে পারি।বর্তমান আইটির যুগে এ পথেই বিশ্ব এগুচ্ছে, আমাদের ও এগুতে হবে।
আমরা শুরু করছি। তবে কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখছি।তিনমাস হলো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বেতন না পাওয়ায় দুর্মূল্যের বাজারে শিক্ষক কর্মচারীগণ কঠিন দুরবস্থায় আছে।বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকারকে কিছু প্রণোদনা দেয়া জরুরী।
শিক্ষার্থীরাও নেটে বেশ খরচ থাকায় সমস্যায় পড়ছে।প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মানসম্মত টাচ মুবাইল কেনার সামর্থ্য নেই।এসব ক্ষেত্রে সরকারকেই সহযোগিতা করতে হবে।আর অনেক জায়গায় নেট খুব দুর্বল। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জরুরি।
আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের সব শিক্ষকগণই সৎ এবং আন্তরিক। করোনার এ মহাদুর্যোগে কেউ হাত গুটিয়ে বসে থাকার মতো নয়। আন্তরিকতার সাথে এখনই এই শিক্ষা যুদ্ধে এগিয়ে থেকে দেশকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিবেন।
লেখক-
অধ্যক্ষ,
কাঁচকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।
উত্তরখাঁন, ঢাকা।
ও সহসভাপতি, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
