সেরা ৫০০’র বাইরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস নয়

বিদেশের অখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বাংলাদেশে পরিচালনার আর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ওয়ার্ল্ড কিউএস র্যাকিংয়ে ৫০০ এর মধ্যে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শাখা ক্যাম্পাস বাংলাদেশে পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া কোনো কারণে শাখা ক্যাম্পাস বন্ধ হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এসব বিধান সংযুক্ত করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনা বিধিমালার সংশোধন করছে সরকার। বিদ্যমান নীতিমালায় সংশোধন এনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নতুন প্রস্তাবিত নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। বিধিমালা সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সম্প্রতি অবসরে যাওয়া সদস্য অধ্যাপক আখতার হোসেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সংশোধনী আমাদের কাছে এসেছে। এই বিধিমালা আইনি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। দ্রুত এ কাজ শেষ করা হবে।’

এর আগে ২০১৪ সালের বিধিমালায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবিত সংশোধিত বিধিমালায় স্টাডি সেন্টার বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমতি পাবে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস হবে প্রায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ৯ সদস্যের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অনুষদ, পাঠ্যক্রম কমিটি, অর্থ কমিটি, শিক্ষক নিয়োগ কমিটি শৃঙ্খলা কমিটি থাকবে। এছাড়া কর্মকর্তাও থাকবেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো।

তবে বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাসে প্রধান থাকবেন উপ-উপাচার্য বা ভাইস প্রেসিডেন্ট। এছাড়া ট্রেজারার ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা, পরিচালক (অর্থ), জনসংযোগ কর্মকর্তা ও লাইব্রেরিয়ান থাকবে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজে কোনো শাখা ক্যাম্পাসে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে উপ-উপাচার্য/ভাইস প্রেসিডেন্ট বা ট্রেজারার থাকতে পারবেন না।

শাখা ক্যাম্পাস কর্তৃক কনভোকেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে থাকতে হবে এবং সনদপত্রে ভাইস চ্যান্সেলর/প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করবেন। শাখা ক্যাম্পাস বিধিমালা না মানলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হবে। এছাড়া কোনো শাখা ক্যাম্পাসের সনদ বাতিল হলে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বিপন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত বা কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে শাখা ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্টদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২০১৪ সালের বিধিমালার আলোকে তখন ১৪টি প্রতিষ্ঠান আবেদনও করে। এর মধ্য থেকে দুটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজের স্টাডি সেন্টার পরিদর্শন ও যাচাই শেষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের আপত্তির কারণে তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঐ কার্যক্রম স্থগিত রাখে। বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি স্থগিত এই কার্যক্রম নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার আলোকে নীতিমালা সংশোধন হচ্ছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.