নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের আমলে বঞ্চিত ছিলেন প্রশাসন ও পুলিশের অনেক কর্মকর্তা। ধীরে ধীরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি জট খুলেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি পুলিশ ক্যাডারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের মনোবল ও উৎসাহ বৃদ্ধি জরুরি। পদ খালি না থাকলেও প্রশাসন ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি আছে। কিন্তু এক্ষেত্রে পুলিশ ক্যাডার বৈষম্যের শিকার। বর্তমান সরকার এ বৈষম্য দূর করতে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে দাবি করে চলতি মাসের মধ্যে উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মাসের যে কোনো সময়ে ২১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ডিআইজি পদে পদোন্নতির খবর আসতে পারে। এ নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমান সরকার বঞ্চনা ঘোচাতে আন্তরিক। মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অতীতে যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকেও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাচের অন্তত ৮ জনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভেঙে যাওয়া মনোবল পুরোপুরি ফেরেনি পুলিশে। তাদেরকে সক্রিয় করতে সরকার চেষ্টা করার কথা বলে যাচ্ছে। পতিত সরকারের আমলে অন্যায্য নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পুরোপুরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে এখনও হাসিনার অনুসারীরা ঘাপটি মেরে বসে আছে। নানাভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে তারা। অথচ ওই সময়ে সত্যিকারের মেধাবী ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটা অংশ আজও পদোন্নতি-পদায়ন নিয়ে বৈষম্যের শিকার।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন বা পুলিশ নয়, কোনো ক্যাডারেই বৈষম্য থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত। হারানো মনোবল ফিরে পেতে সব ধরনের বঞ্চনা দূর করা উচিত।
একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ প্রশাসনে নেতৃত্বে শৃঙ্খলা আসছে না। মাঠপর্যায়ে এসআই, কনস্টেবল ও ইন্সপেক্টরদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি ও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি দৃশ্যমান হয়। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বড় অংশ ছিল স্বৈরাচার সরকারের অনুসারী; যারা দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করেছেন। তারা এখনও থানা, ফাঁড়ি বা বিভিন্ন স্থানে কর্মরত। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাপকহারে পুলিশ নিয়োগ দিতে পারলে কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই যোগ্য ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ভারসাম্য আসতে পারে। কিন্তু তাদের অনেকেই বঞ্চিত। অথচ ১৫ ও ১৭তম তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যডারের কর্মকর্তারা সচিব হয়ে বেশ আগেই। ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তারা যুগ্ম সচিব হয়েছেন। ২০ ব্যাচের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সচিব হয়ে গেছেন। কিন্তু পুলিশের ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এ নিয়ে বেশ হতাশা রয়েছে কর্মকর্তাদের মনে। বৈষম্য ও ক্ষোভ মনে পুষে রেখে একটি বাহিনীর গুণগত পরিবর্তন কঠিন বলে মনে করছেন তারা।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পালিয়ে যায় তার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ। তারা আজও কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। অনেকেই রয়েছেন আত্মগোপনে, কেউ কেউ পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। এর মধ্য থেকে কিছু কর্মকর্তার পদক প্রত্যাহারসহ শাস্তির খবর মিলেছে। ওই সময়ে যারা বঞ্চিত ছিলেন তাদের মেধাকে কাজে লাগানো জরুরি। বঞ্চিত পুলিশ কর্তাদের অভিযোগ- অতি-উৎসাহী আমলা ও কিছু পুলিশ কর্তার কারণেই পদোন্নতি এবং ভালো স্থানে পদায়ন হচ্ছে না। আশার কথা হচ্ছেÑ ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকারের হাইকমান্ড।
এর আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তাকে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একটি প্রজ্ঞাপনে ৩১ জনকে এবং আরেকটিতে দুজনকে পদোন্নতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। তাদের প্রায় সবাই ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা। এবার ২১তম ব্যাচ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৩ মে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তারও আগে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের ১১ জন ডিআইজি এবং ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। তারা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্বরত ও সংযুক্ত ছিলেন।
শিক্ষাবার্তা /এ/ ০৫/০৫/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

