নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান কেন আইন-বিধি বহির্ভুত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। একই সাথে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি মিজ্ ফাতেমা নাজিব এবং বিচারপতি মিজ্ ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রুলের পক্ষে শুনানী করেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং এডভোকেট মো: কায়সারুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আকতার হোসাইন, মো. আব্দুল ওয়াহাব এবং সঙ্গীয় ০৫জন ডেপুটি ও সহকারী এটর্নি জেনারেল।
গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ থেকে মাউশি ডিজি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে মাউশির সাবেক পরিচালক প্রফেসর আবেদ নোমানী একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন যার নম্বর ১৭০৭৪/২০২৫।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী মো: কায়সারুজ্জামান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন আইন-বিধি বহির্ভুত ঘোষণা করা হবে না- সেই মর্মে কারণ দর্শানোসহ রুলের জবাব দেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক (পিআরএল) অধ্যাপক মো. আবেদ নোমানীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কায়সারউজ্জামান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার এবং শিক্ষা সচিব রেহেনা পারভীনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
আরও পড়ুনঃ
- মাউশি ডিজি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার চেয়ে আইনী নোটিশ
- মাউশির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- মাউশি ডিজি অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে ওএসডি
- অব্যাহতি চাইলেন মাউশি ডিজি, প্রত্যাহারের উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের, নেপথ্যে কী?
নোটিশে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি নির্দিষ্ট একটি মহলের জন্য প্রণীত এবং এতে পূর্বানুমোদিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিজ্ঞপ্তিটি সংবিধান ও প্রশাসনিক বিধি-বিধানের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে মাউশি মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক এ বি এম রেজাউল করীম। তিনি অবসরে যাওয়ার পর গত ৩০ জানুয়ারি এ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন রসায়নের অধ্যাপক এহতেসাম উল হক। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর আওয়ামী লীগের ভোল্ট পাল্টিয়ে এন্ট্রি আওয়ামী লীগ সাজার চেষ্টা করা, শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ পদ থেকে প্রত্যাহার হওয়া ও বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ অনুচর হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. এহতেসাম উল হককে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে পদায়ন পান অধ্যাপক এহতেসাম উল হক। এ নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ডিজি পদে পদায়ন পাওয়ার পরে ‘শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিই মাউশির নতুন ডিজি‘ শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। তারপর বিএনপির শিক্ষক সংগঠন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে ডিজির প্রত্যাহারের দাবিতে। পরে দাবির মুখে নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। তখন তাঁকে ওএসডি করা হয়। এরপর জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে মাউশির নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এর গত ১৪ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে মহাপরিচালক পদ থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
