এইমাত্র পাওয়া

মাউশি ডিজি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার চেয়ে আইনী নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নজিরবিহীনভাবে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার চেয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার ও শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীনকে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  মন্ত্রণালয় থেকে গত ছয় অক্টোবরে জারি করা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে নোটিশে। অন্যথায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. আবেদ নোমানীর (পিআরএল) পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কায়সার উজ্জামান এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিব ছাড়াও জনপ্রশাসন সচিব ও ডিজি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সই করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ শাখা-১ এর উপসচিবকেও বিবাদী করা হয়েছে। বিশেষ দূত মারফত শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবসহ অন্যান্যদের পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ছয় অক্টোবরে জারি করা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ১৬তম এবং তদূর্ধ্ব ব্যাচের কর্মকর্তাদের আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্তসহ অফলাইনে আবেদন করার জন্য বলা হয়।

তবে, মহাপরিচালক পদে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আজাদ খান কর্মরত থাকাবস্থায় নজিরবিহীনভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা বলছেন, ডিজি পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় এমন বিজ্ঞপ্তি নজিরবিহীন এবং শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে প্রথম।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা সচিব বরাবর আবেদন করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। অব্যাহতির আবেদনে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান লিখেছেন, ‘মাউশির মহাপরিচালক পদে বিগত ২০/০২/২০২৫ খ্রি. তারিখ যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত আছি। স্বাস্থ্যগত কারণে আমার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই আমি মহাপরিচালকের দায়িত্ব হতে অব্যাহতির আবেদন করছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অধ্যাপক আজাদ আপাদমস্তক একজন সৎ ব্যক্তি। নজিরবিহীন ডিজি নিয়োগের এই বিজ্ঞপ্তিতে সৎ ও দায়িত্বপরায়ণ উল্লেখ করায় তিনি পদত্যাগ  করেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে মাউশি মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক এ বি এম রেজাউল করীম। তিনি অবসরে যাওয়ার পর গত ৩০ জানুয়ারি এ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন রসায়নের অধ্যাপক এহতেসাম উল হক। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর আওয়ামী লীগের ভোল্ট পাল্টিয়ে এন্ট্রি আওয়ামী লীগ সাজার চেষ্টা করা, শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ পদ থেকে প্রত্যাহার হওয়া ও বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ অনুচর হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. এহতেসাম উল হককে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে পদায়ন পান অধ্যাপক এহতেসাম উল হক। এ নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ডিজি পদে পদায়ন পাওয়ার পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিই মাউশির নতুন ডিজি শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। তারপর বিএনপির শিক্ষক সংগঠন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে ডিজির প্রত্যাহারের দাবিতে। পরে দাবির মুখে নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। তখন তাঁকে ওএসডি করা হয়। এরপর জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে মাউশির নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন: অব্যাহতি চাইলেন মাউশি ডিজি, প্রত্যাহারের উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের, নেপথ্যে কী?

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.