নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

খুলনা: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (মঙ্গলবার) দিনব্যাপী নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অগ্রগতি ও সাফল্যের ধারায় নিজ অবস্থান দৃঢ় করেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বেলা ১১টায় লিয়াকত আলী অডিটোরিয়ামে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কৃতী শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। ‘উদ্যম বাংলা’ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, প্রশাসনিক ভবনের মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মেইন গেট, আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, মসজিদ, মন্দিরসহ পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

উপাচার্য ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও দেশগঠনের লক্ষ্য নিয়ে একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আজ একটি অগ্রগামী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতেও এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।’

১৯৮৭ সালে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ১৯৮৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আনুষ্ঠানিক একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯১ সালের ৩১ আগস্ট মাত্র ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের নেতৃত্বে খুবির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

৩৫ বছরের পথচলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্বীকৃত ও শক্তিশালী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এখানে রয়েছে আটটি স্কুল, একটি ইনস্টিটিউট, ২৯টি ডিসিপ্লিন এবং ৭ হাজার ৫০০’র বেশি শিক্ষার্থী। দেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এখানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় ক্যাম্পাসে শান্ত, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রয়েছে।

গবেষণার ক্ষেত্রেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, আরবান প্ল্যানিং, মেরিন রিসোর্স, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ব্যবসায় শিক্ষা ও ফোকলোরসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা নীতিনির্ধারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৫/১১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.