নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে তিনটি নতুন বিষয় যুক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বিষয়গুলো হলো—চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতি’, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ‘জীবন ও কর্মমুখী শিক্ষা’।
একই সঙ্গে ইতিহাস, তথ্যপ্রযুক্তি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষায় নতুন অধ্যায় সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব পরিবর্তন ও পাঠ্যবই পরিমার্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পৃথক কর্মশালার আয়োজন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতোমধ্যে চার দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির ৯৯টি বই পরিমার্জন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি বই পরিমার্জনের কাজ।
আগামী দুই মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে চায় এনসিটিবি। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞও এ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।
মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে কয়েকটি নতুন বিষয় সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বিস্তারিত বর্ণনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা।
এ ছাড়া জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে পারে।সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ইতিহাসের উপস্থাপনাকে আরও তথ্যনির্ভর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়েও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পুরোনো বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতেই এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
নতুন পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতি’ নামে আলাদা বিষয় চালুর পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরেও খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে পাঠ্যক্রমের অংশ করা হবে।
এতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, দাবা এবং দেশীয় সংস্কৃতিভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে সরাসরি অংশগ্রহণ ও ব্যবহারিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, শুধু বিষয়বস্তু নয়; পাঠ্যবইয়ের ভাষা, শব্দচয়ন ও বানানেও সংশোধন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণেও নান্দনিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছবি, বাণী, প্রবাদ ও ক্যাপশন ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আগামী জুন মাস থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
শিক্ষাবার্তা /এ/১৩ /০৫/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
