নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আর্থিক কেলেংকারী ও নৈতিক স্থলন জনিত বিভিন্ন অভিযোগে করা তদন্তের তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত সাত মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের হুলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মঈনুল ইসলাম পারভেজ এবার এলাকাবাসীকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথপুরের প্যাডে (সংগঠনটি শুধুমাত্র জগন্নাথপুর কেন্দ্রিক) ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এই সংগঠনের সভাপতিও অধ্যক্ষ মোঃ মইনুল ইসলাম পারভেজ।
গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথপুরের ২৩ সদস্যের স্বাক্ষরিত স্বারকলিপি ইউএনও বরাবর প্রদান করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জগন্নাথপুর উপজেলাধীন হবিবপুর-কেশবপুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম। অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর হুলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মইনুল ইসলাম পারভেজ কর্তৃক বিভিন্ন অনিয়ম করার অভিযোগ তুলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন। যদিও অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেলিনে মাদ্রাসাটির তৎকালীন সভাপতি। তবে সেই অভিযোগ দায়েরের দুইদিন আগে অধ্যক্ষ পারভেজ কর্তৃক করা অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত শিক্ষাবার্তা’কে পাঠিয়েছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম। তার প্রেরিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি গত ১৯ অক্টোবর ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে “ভুয়া আবেদন এবং স্মারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হলেন অধ্যক্ষ মইনুল” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই অধ্যক্ষ হাকিমই এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যক্ষ মঈনুলের নানা অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার কুটকৌশলে।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, “জগন্নাথপুর উপজেলাধীন মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সম্মানিত সভাপতি হলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন তাঁর সুনাম ও সম্মানহানির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার প্রপাগান্ডায় লিপ্ত রয়েছে। তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ ও স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট বিষয় উল্লেখ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন দপ্তর তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকায় অভিযোগ দায়ের করে। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকল দপ্তর কর্তৃক তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বরং প্রতিটি তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।”
স্বারকলিপিতে উল্লেখিত দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা যার প্রমাণ মেলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশে জগন্নাথপুর ইউএনও তদন্ত করে অধ্যক্ষ মঈনুলের বিরুদ্ধে। যার স্বারক নম্বর উশিঅ/জগ/সুনাম/২০২৪ তারিখ: ১৮/০৯/২০২৪। তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। আর এই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তার বেতন-ভাতা (এমপিও) গত ২০ ফেব্রুয়ারি বন্ধ করে দেয়। যারা স্বারক নম্বর-৫৭,২৫,০০০০,০০২,০৮,০১০,২৪৪০৫ তাং-২০/০২/২০২৫। সেই ফ্রেব্রুয়ারি থেকে গত আগস্ট মাস পর্যন্ত অধ্যক্ষ মঈনুল ইসলামের বেতন বন্ধ রয়েছে এবং চলমান রয়েছে।
এছাড়া স্বারকলিপিতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করা হয়েছে উল্লেখ করা হয়। বাস্তবে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে ইআবি/রেজি/প্রশা/ফা.গ.ব/স-১২/২০১৭/১৫২৮১ নম্বর স্বারকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ আইউব হোসেন স্বাক্ষরিত তদন্তের চিঠি ইস্যু করা হয়। এই তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীকে। এটি তদন্তাধীন আছে। বিষয়টি শিক্ষাবার্তা’কে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী নিজেই। তিনি এখনও প্রতিবেদন রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেননি। অথচ স্বারকলিপিতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করা হয়েছে উল্লেখ করা হয় যা মিথ্যাচার।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির বিষয়ে করা ফরেনসিক প্রতিবেদন, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন, জগন্নাথপুর থানার করা প্রতিবেদন এবং পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে যে অধ্যক্ষ মোল্লা পারভেজ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তার সুপষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের করা এসব তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষাবার্তা’র হাতে রয়েছে।
স্বারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “কুচক্রী মহল কোন উপায়ান্তর না দেখে এখন সন্ত্রাসী পন্থায় অধ্যক্ষকে অপদস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ ইংরেজি তারিখে মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে কতিপয় উশৃংখল প্রকৃতির লোক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে অধ্যক্ষ সাহেবকে না পেয়ে উপাধ্যক্ষকে ডেকে এনে বিভিন্ন প্রকারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি তারা অধ্যক্ষকে জোরপূর্বক অপসারণ ও মাদ্রাসায় প্রবেশে বাধা প্রদান এবং অধ্যক্ষের অফিস তালাবদ্ধ করার হুমকি প্রদান করে। এমতাবস্থায়, হলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জনাব মাওলানা ড. মইনুল ইসলাম পারভেজ সাহেবকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানসহ হুমকি প্রদানকারী সন্ত্রাসীদের আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণে মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অন্যথায় জগন্নাথপুরসহ সমগ্র জেলার সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক সমন্বয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
স্বারকলিপিতে এলাকাবাসীকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে অধ্যক্ষকে জোরপূর্বক অপসারণ ও মাদ্রাসায় প্রবেশে বাধা প্রদান এবং অধ্যক্ষের অফিস তালাবদ্ধ করার হুমকি প্রদানের অভিযোগ করা হলেও বাস্ততবে ৩১ আগস্ট কি হয়েছিল তার ১০ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রেকর্ড শিক্ষাবার্তা’র হাতে এসেছে। যেখানে মব সৃষ্টি কিংবা কোনো উদ্ধত পূর্ণ আচরণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে উক্ত সময়ে উপস্থিত মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকাবাসী শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি আর্থিক জালিয়াতি করেন এবং সেই অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সরকার তার বেতন বন্ধ করে দেয় তাহলে সে কি সেই চেয়ারে দায়িত্ব পালন করতে পারে? গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার বেতন বন্ধ হলে আমরা একাধিকবার জেলা প্রশাসক, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ইউএনও বরাবর লিখিত দিয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মাদ্রাসা থেকে তাকে অপসারণের। এক কিংবা দুইবার নয় এই তিন কর্মকর্তার কাছে অন্তত আমরা পাঁচ বার লিখিত দিয়েছি। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আমরা বাধ্য হয়েই মাদ্রাসাতে গিয়েছে তার বেতন বন্ধ থাকা অবস্থাতেও তিনি কিভাবে মাদ্রাসায় উপস্থিত হচ্ছেন জানতে। তাকে না পেয়ে আমরা মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষের সাথে কথা বলি। কোনো ধরণের ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। তারা যেন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিতে না পারে সে জন্য আমরা পুরো সময়ের ভিডিও ধারণ করি। ভিডিও থাকা অবস্থাতেও তারা মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকাবাসীকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে মিথ্যা তথ্য লিখে স্বারকলিপি দিয়েছে।
স্বারকলিপিতে সন্ত্রাসীদের (এলাকাবাসী) আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে জগন্নাথপুরসহ সমগ্র জেলার সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক সমন্বয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি প্রদান করা হয়। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জুডিশিয়াল আদালত সুনামগঞ্জে সি/ আর -১৫ নম্বর মামলায় ১৬ দিন কারাভোগ করেন অধ্যক্ষ মঈনুল। বিজ্ঞ আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথপুরের ব্যানারে বিক্ষোভ করান তিনি। আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের কোনরূপ প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ না থাকলেও তারা বিক্ষোভ করেন।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন অধ্যক্ষ মঈনুল অধ্যক্ষ পদে নিয়োগকালীন সময়ে কাম্য যোগ্যতা ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে একই সাথে একাধিক পদ বা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে পারবেন না বলে সুস্পষ্ট বিধি উল্লেখ থাকলেও সেই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে তিনি একই সাথে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও বিবাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন। বিষয়টি জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার করা তদন্ত প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ২০২৩ সালের ২৫ জুন বর ও কনে পক্ষকে নানা কায়দায় প্ররোচিত করে কাবিনামায় বয়স জালিয়াতি করে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাকে শোকজ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। তার বিবাহ রেজিস্ট্রারের লাইন্সেন প্রাপ্তির স্বারক নং- ২৪৪/বিচার-৭/২ এন-৩৪/৮৪ এবং লাইসেন্স প্রাপ্তির তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ। এর আগে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার কেশবপুর গ্রামের শাহনাজ পারভিন লিসা নামের এক মহিলার কাবিননামায় তার নাম মুছে মোসাম্মৎ সাজেদা বেগম নামের অন্য মহিলার নাম বসিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশ গমণে সহায়তার অভিযোগে শাহনাজ পারভীন লিসা বাদী হয়ে আমল গ্রহণকারী আদালত, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জে (সিআর মামলা নং-৩৮/২০২৩) মামলা দায়ের করেন। এই কাজে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। তবে পরবর্তীতে তিনি চাপ প্রয়োগ করে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করেন মামলার বাদীকে।
মাদ্রাসাটির গভর্নিং বডির সভাপতির মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি নিয়েও জালিয়াতি করেন তিনি। মাদ্রাসাটির কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম মাফিক গত ১৯/৫/২০২৫ তারিখে বিদ্যমান কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয় মাদ্রাসা থেকে। এরই মধ্যে একাধিকবার গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে তাকে অপাসারণে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের সাথে একাধিকবার দেখা করলে জেলা প্রশাসন সভপাতি এডিসিকে নির্দেশ প্রদান করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে অপসারণ করতে। বিষয়টি জানতে পেরে কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটকে রাখেন অধ্যক্ষ মঈনুল। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে ৮ জুলাই ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করলে ১০ জুলাই কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। পরবর্তী সভাপতি তার কার্যালয়ে অধ্যক্ষকে গভর্নিং বডির মিটিংয়ের জন্য ডাকলেও তিনি আর সারা দেননি। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট মিটিংয়ের জন্য অধ্যক্ষকে ইউএনওর মাধ্যমে এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যেরকে মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার জন্য ১৪ আগস্ট চিঠি প্রদান করলেও অভিভাবক প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং অধ্যক্ষ উপস্থিত হননি। ফলে সভাপতি এডিসি এবং কমিটির সদস্য জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুইজন মিলেই কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে মিটিং শেষ করেন। এমনকি মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের গত তিন মাসে বেতনের জন্য এমপিও শিটে সভাপতি এডিসির স্বাক্ষরও নেননি। ফলে তিন মাস ধরে বেতন-ভাতা পাননি শিক্ষক-কর্মচারীরা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ এ পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের একতরফা নির্বাচনে শেখ হাসিনার আস্তাভাজন মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী সাংসদ নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হলেই শেখ হাসিনা তার আস্তাভাজন মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী ধর্ম মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত করেন। মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী ১২ মার্চ ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনোনীতি হন। তিনি বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহের সভাপতি। আর এই বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ। ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালান। নির্বাচন সুষ্ঠ ও অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য বলেও প্রচার চালান তিনি। শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের লক্ষে একতরফা নির্বাচনের বৈধতার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন অধ্যক্ষ মঈনুল।
ইউএনও বরাবর অধ্যক্ষ মঈনুল ইসলাম পারভেজের সভাপতিত্বে চলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি জগন্নাথপুরের প্যাডে দেওয়া স্বারকলিপি প্রদানের নেতৃত্বে দেওয়া শিক্ষক সমিতির সদস্য হবিবপুর কেশবপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুল হাকীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা স্বারকলিপি দিয়েছি মূলত মব জাস্টিসের বিপক্ষে। তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক কিংবা সভাপতি এডিসি ব্যবস্থা নিক তাতে সমস্যা নাই কিন্তু মব জাস্টিস কেন।
একাধিকবার এডিসি তাকে ডাকলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। এলাকাবাসী একাধিকবার জেলা প্রশাসক, এডিসি এবং ইউএনও বরাবর অপাসরণের জন্য লিখিত দিলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা মাদ্রাসায় গিয়েছিল তবে সেখানে ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাহলে মব জাস্টিস বলছেন কেন ? তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে এটা মব জাস্টিসই। তিনি নির্দোষ কোন তদন্তেই তার প্রমাণ মেলেনি।
আপনিও তো এক বছর আগে তার বিরুদ্ধে আপনার সভাপতিকে দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত দিয়েছিলেন। তখন তিনি ভালো ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুধু মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে। যেহেতু আমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথপুরের সাথে আছি তাই গিয়েছি। তার সম্পর্কে আমার ধারণা আগের অবস্থাতেই আছে।
এর আগে সুনাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া অধ্যক্ষ মঈনুল ইসলাম পারভেজকে সাময়িক বরখাস্ত করবেন বলে একাধিকবার এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন। তবে এখনও কেন তাকে অপসারণ করা হয়নি জানতে চেয়ে তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শিক্ষাবার্তা ডট/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
