এইমাত্র পাওয়া

মুজিব বর্ষে হোক ননএমপিও শিক্ষকদের কান্নার অবসান

মো.সাজ্জাদ হেসেন।।
১০ জানুয়ারি বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। বাঙ্গালী জাতির জনক, বাঙ্গালীর নয়নের মণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০ শে জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বীরের বেশে তার প্রিয় জন্মভূমি,স্বাধীন বাংলাদেশে পদার্পণ করেছিলেন। ৮ জানুয়ারি পাকিস্থানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে সকল বাধা বিঘœ, উপেক্ষা করে রাওয়ালপিন্ডি বিমান বন্দর থেকে লন্ডন ও পরবর্তীতে ভারতের দিল্লি বিমান বন্দর হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দর ও দিল্লি বিমান বন্দরে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নেতেৃত্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ব্যাপক গণসংবর্ধনার মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমান যখন তেজগাঁও বিমান বন্দরে অবতরণ করেছিল তখন ১০ লাখের ও বেশি মানুষ প্রিয় নেতাকে একপলক দেখার জন্য বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়েছিল। ২৯০ দিন পাকিস্থানি কারাগারে বন্দি থাকাকালীন সকল জুলুম,নির্যাতন,মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করে ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত শরীর নিয়ে পথে পথে প্রিয় মানুষদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে আড়াই ঘন্টা পরে প্রিয়নেতা রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হয়েছিল। লোকে লোকারণ্য রেসকোর্স ময়দানে আবেগ আপ্লুত পরিবেশে বঙ্গবন্ধু জাতির উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। দেশ গড়ার কাজে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিল। রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শিশুর মত হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন। প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মীরাও আনন্দে কেঁদেছিল।

২০২০ খ্রি. ১০ শে জানুয়ারি থেকে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ বাঙ্গালী জাতি উদযাপন করবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী। সারাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। সকল সেক্টরে উন্নয়নের অভূতপূর্ব ছোঁয়া লেগেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে আজ ১৯০৯ মার্কিন ডলার।সকল সেক্টরের মানুষ কাজ করে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।জীবন ধারণের জন্য যতটুকু আর্থিক সচ্ছলতা দরকার সেটা আজ অনেকেই উপার্জন করতে পারছে। সকল শ্রেণি পেশার মানুষ আজ মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে।

কিন্তু আজও এক শ্রেণির উচ্চ শিক্ষিত মানুষ বিনা বেতনে, বিনা পারিশ্রমিকে বছরের পর বছর যাবৎ দেশে শিক্ষার আলো বিলিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র থেকে বিনিময়ে তারা কিছুই পাচ্ছে না। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে,অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। পড়ালেখার পাঠ শেষ করে, বিশ^বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ড্রিগ্রি নিয়ে তারা আজ বিনা বেতনের কর্মচারী। জীবন ধারণের জন্য সামান্য সুযোগ সুবিধাটুকু আজ রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাচ্ছেনা। উচ্চশিক্ষিত সন্তান অথচ আজ তাদের পরিবারের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। পরিবারের ন্যুনতম দায়িত্বটুকু আজ পালন করতে পারছে না।

পিতা-মাতা সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে থাকে। কবে তার উচ্চ শিক্ষিত সন্তান তার পরিবারের হাল ধরবে। কোন দিন অভাবের সংসারে সুখের আলোর দেখা মিলবে। স্ত্রীর চাহিদা,সন্তানের বায়না কোনটাই আজ ননএমপিও শিক্ষকের দ্বারা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কি অসহায় আজ ননএমপিও শিক্ষক সমাজ। বছরের পর বছর শিক্ষার আলো জ¦ালানোর পরেও তাদের ঘরে সুখের আলো জ¦লছে না। অভাব নামের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বেঁচে আছে জিন্দা লাশ হয়ে। অভাবের যাতনায় পেটের ক্ষুধা,মনের অশান্তি,মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে শিক্ষকের মেধাবুদ্ধি আজ হারিয়ে যেতে চলেছে। ক্ষুধার্ত শিক্ষক সমাজ আজ জাতিকে কি উপহার দেবে। যাদের সবচেয়ে ভাল থাকার কথা তারা আজ সবচেয়ে বড় অসহায়। বিজয়ের আনন্দ,ঈদ,পূজা সকল আচার অনুষ্ঠান উদযাপন করার মত সামর্থ্য আজ তাদের নেই। জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীতে কি নিয়ে আজ আনন্দ করবে,ননএমপিও শিক্ষক সমাজ ? কিভাবে উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। রাষ্ট্রের কাছে আজ তারা স্বীকৃতিহীন শিক্ষক সমাজ। বিনা বেতনের শিক্ষার সেবক।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইতিমধ্যে ২৭৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। অল্প পরিমাণ শিক্ষকদের মুখে হাঁসি ফোটানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মুজিব বর্ষের শুরুতেই যদি অবশিষ্ট সকল ননএমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির ঘোষণা দিলে সকল শিক্ষক মন্ডলীর মুখে কিছুটা হলেও হাঁসি ফুটত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিশ^ নেত্রী,আপনি মানবতার মা,আপনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা,পিতার মত আপনার সাহস,মেধা ও বুদ্ধি। বিশ^ ব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরও আপনার নেতৃত্বে দেশের নিজস্ব অর্থয়ানে পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প সমাপ্তির পথে। আপনি আপনার সততা,পরিশ্রম,মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে বাংলাদেশকে আপনার পিতার মত বিশে^র দরবারে তুলে ধরেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশিষ্ট ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে এমপিও ভুক্ত করে মুজিব বষের্র সকল আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ করে দেবেন। মুজিব বর্ষে এটাই ননএমপিও শিক্ষকদের আপনার কাছে প্রত্যাশা।
লেখক-
প্রভাষক,হিসাব বিজ্ঞান
লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ
নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.