টানা ৯ বছর পর ২০০৯ সালের ২৩ অক্টোবর দুই হাজার ৭৩০টি বেসরকারি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়। ২০০৯ সাল থেকে বন্ধ ছিল এমপিওভুক্তি। এ জন্য শিক্ষকরা দীর্ঘদিন আন্দোলনও করেছেন। অবশ্য এমপিওভুক্তির ঘোষণার পর এর ভুলত্রুটি নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী আছে কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই, শিক্ষার্থী কম, ভাড়া বাড়িতে শিক্ষাদান করা হয়, ত্রুটিপূর্ণভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে- এমন বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্ত হয়। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের নামে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তি নিয়েও দেখা দেয় বিতর্ক। এমপিওভুক্তিকে বিতর্কমুক্ত করতে এখন চলছে তথ্যের যাচাই-বাছাই। উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তির দাবি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। ২০১৯ সালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি অনুষদভুক্ত সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চালু করতে সক্ষম হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
চলতি বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম বড় অর্জন ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিশ্বস্বীকৃতি আদায়। ইউনেস্কো গত ২৫ নভেম্বর মুজিববর্ষকে বিশ্বস্বীকৃতি দেয়। ফলে এই বিশ্বনেতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী ১৯৫টি দেশে উদযাপিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের তত্ত্বাবধানে মুজিববর্ষের বিশ্বস্বীকৃতি আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়।
এর বাইরে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী ও পরিমার্জনের কাজ শুরু, পাবলিক ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে নূ্যনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ, ২০২০ সাল থেকে ৬৪০টি স্কুলে ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা, ২০২১ সাল থেকে মাধ্যমিকের সব ক্লাসে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১৩ হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার নতুন ভবনের কাজ শুরু করা, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ২৪৯৪ জন নতুন জনবল অর্গানোগ্রামে যুক্ত করা, শিক্ষার মান উন্নয়নে অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন, মাদ্রাসা বোর্ড আইন ২০১৯ পাস, পাবলিক পরীক্ষার জিপিএ গ্রেডিং সিস্টেম জিপিএ ৫ এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ চালুর উদ্যোগ নেওয়া, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে `বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্নার` চালু, শতবর্ষী ১৩টি কলেজকে `সেন্টার অব এক্সিল্যান্স` হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে সিগারেটের দোকান না রাখার নির্দেশনা এবং নীতিশিক্ষার অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে সততা স্টোর চালু করা হয়েছে। এক বছরের এসব অর্জন সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিদায়ী সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, বিদায়ী বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরও বহু অর্জন রয়েছে। নতুন নতুন বহু উদ্যোগ আছে। এগুলোর ফল পেতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ বা সিদ্ধান্তের ফলই রাতারাতি পাওয়া যায় না। এ জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সূত্র: সমকাল
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
