এইমাত্র পাওয়া

সেহরিতে মাইক বাজানো নিয়ে দ্বন্দ্ব মাদ্রাসায় হা-ম-লা, হাসপাতালে ভর্তি ৩০

পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলার একটি হাফিজিয়া মাদরাসায় সেহরিতে মাইক দিয়ে রোজাদারদের ডাকাকে কেন্দ্র করে একটি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অপর পক্ষেরসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার (২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের তেলিপাড়া নেছারিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ওই এলাকার এক বাসিন্দার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই মাদরাসার মসজিদের মাইকে প্রতিদিন সেহরিতে খেয়ে রোজা রাখার জন্য রোজাদারদের ডেকে দেয়া হতো। সেহরিতে ডাকাডাকি নিয়ে প্রতিবেশী কায়েদে আজমের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন প্রতিবাদ করেন। পরে কয়েক দিন মাইক বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ওই সমাজের বেশির ভাগ মানুষ মাইকে ডাকার দাবি জানালে আবারও মাইকে ডাকাডাকি শুরু হয়।

শনিবার সন্ধ্যার সময় বাজার করে ফেরার পথে মাদরাসা শিক্ষক আরিফ হাসান ও মুহতাসিম বিল্লাহকে আটক করেন কায়েদে আজম ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাবিনা ইয়াসমিন জুতা দিয়ে এবং কায়েদে আজম লাঠি দিয়ে তাদের মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে মাদরাসার অন্য শিক্ষক ও ছাত্ররা ছুটে এলে ওই দম্পতি ও তাদের স্বজনরা তাদেরও মারধর করে।

এ সময় মাদরাসার পরিচালকের মা গুলজান নেহার (৫০) ও তিনজন শিক্ষক ও ২১ জন ছাত্র আহত হন। অপর পক্ষের কায়েদে আজম ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও আহত হন। তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাদরাসা ছাত্র রিশাদ বলেন, ‘আমি পানি খাচ্ছিলাম। এ সময় একজন এসে আমার হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এভাবে তারা আমাদের মাদরাসা শিক্ষক-ছাত্রদের মারধর করেছে।’

মাদরাসা ছাত্র রেজওয়ান সরকার বলেন, ‘আমাদের দুজন শিক্ষককে মারধরের খবর পেয়ে আমরা এগিয়ে গেলে আমাদেরও নির্বিচারে মারধর করা হয়। আমাদের ঘর ভাঙচুর করা হয়।’

মাদরাসার শিক্ষক মুহতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘৫-৭ বছর আগে মাদরাসার জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। এখন তারা সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু করে। মাইকে সেহরিতে ডাকার বিষয়ে তারা আপত্তি জানালে আমরা কিছুদিন মাইক বন্ধ রাখি। পরে বেশির ভাগ মানুষ ডাকার বিষয়ে দাবি জানালে পরে আবার ডাকা শুরু হয়। তবে মাইক অন্যদিকে ঘুরে দেয়া হয়। এতে তারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিকেলে আমরা ফেরার পথে আমাদের আটক করে মারধর শুরু করে। কায়েদে আজমের স্ত্রী জুতা দিয়ে এবং সে লাঠি দিয়ে মারধর করতে শুরু করেন।’

মাদরাসার পরিচালক বাকি বিল্লাহ আল আশরাফ বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষক-ছাত্র থেকে শুরু করে আমার মাকেও তারা ছাড় দেয়নি। সবাই এখন হাসপাতালে। আমরা অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব।’

অভিযোগ অস্বীকার করে কায়েদে আজম বলেন, ‘মাইকে ডাকাডাকিকে কেন্দ্র করে ওরা আমার স্ত্রীর নামে আজেবাজে কথা ছড়িয়েছে। আমরা মাইক একটু ওপরে দেয়ার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা উল্টো আমাদের বাড়ির দিকে মাইক ঘুরিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা সবাই আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

কায়েদে আজমের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘তারা উচ্চ স্বরে মাইকে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করে। তারা আমার বাড়ির দিকে মাইক ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমার বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার খুবই সমস্যা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা খাজা এনায়েতপুরীর অনুসারী। মাদরাসা আমাদের ১০ শতক জমি দখল করে রেখেছে। ওই জমিতে কবরও দিয়েছে।’

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, ‘সেহরিতে ডাকাডাকি ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মামলা করেছেন। এ ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত।’

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৩/০৩/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading