নিউজ ডেস্ক।। প্রাথমিকে শিক্ষায় ঝরেপড়া রোধে এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে নতুন একটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদিও গত কয়েক বছর ধরেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে প্রকল্প চালু ছিল। এই প্রকল্পটি মূলত প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি) আওতায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত ও প্রাথমিক থেকে ঝরেপড়া রোধে ২০০১ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিস্কুট দিয়ে শুরু হয়েছিল এই প্রকল্প। ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে চালানোর পর নতুন করে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করছে সরকার। এরই মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে অধিদফতর। অপেক্ষা এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) মিটিংয়ে প্রস্তাব পাস হওয়ার। অধিদফতরের সূত্র জানায়, এবারের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জন্য অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার চিন্তা করছে সরকার। প্রকল্পের মেয়াদ হবে তিন বছর। এছাড়া আগের খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করে নতুন প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের ফল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সপ্তাহের পাঁচ দিন বিভিন্ন খাদ্য তালিকা দেয়া হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রস্তাবিত সাপ্তাহিক এসব খাদ্য তালিকায় এনার্জি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোটিন ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফ্যাট ২১ দশমিক ৭ শতাংশ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতি রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবারে একটি ডিম এবং ১২০ গ্র্রামের ১টি বান থাকবে। এছাড়া প্রতি সোমবার ২০০ এমএল ইউএইচটি দুধ এবং একটি ১২০ গ্রামের বান প্রতি বুধবারে ৭৫ গ্রাম বিস্কুট এবং ১০০ গ্রাম সাইজের একটি কলা অথবা ফল থাকবে খাদ্য তালিকায়।
গতকাল বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মো: মিজানুল হক সাংবাদিকদের জানান, আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে নতুন এই প্রকল্পে আমরা নতুন কিছু চিন্তা করছি। এবং সেই চিন্তা থেকেই এবার আমরা খাদ্য তালিকাতেও কিছুটা পরিবর্তন আনছি। তিনি বলেন আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী হাউজহোল্ড ইনকাম এন্ড এক্সপেন্ডিচার-২০১৬ সালের দারিদ্র্য চিত্র অনুযায়ী উপজেলাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে হাউজহোল্ড ইনকাম এন্ড এক্সপেন্ডিচার-২০২২ অনুযায়ী দারিদ্র্য চিত্র নির্ধারণ করা হয়। ২০২২ সালের দারিদ্র্য চিত্র অনুযায়ী দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পের আগের নাম ছিল মিড ডে মিল প্রকল্প। কিন্তু বর্তমানে এটিকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বলা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী যে একনেকের সভা থেকে প্রজেক্ট অনুমোদন হলে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেটা ইমপ্লিমেন্টেশন করা সম্ভব হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সব কার্যক্রম এরই মধ্যে আমরা সম্পন্ন করে রেখেছি। প্রজেক্ট অনুমোদন হলে পিডি নিয়োগ হয়ে সেটা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
