ভোলাঃ ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরউমেদ আহম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার টিনশেড ভবনটি ৭ মাস আগে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এরপরই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। জরাজীর্ণ পাকা ভবনের একটি ক্লাসরুমে ইবতেদায়ির পাঁচটি শ্রেণি এবং অন্য দুটি ক্লাসরুমে ষষ্ঠ থেকে শুরু করে দশম শ্রেণির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে চরমভাবে বিঘ্ন হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সেখানে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। মাদ্রাসাটির জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছে এসব শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মচারীরা।
মাদ্রাসার শিক্ষক আব্বাসউদ্দীন ও মাকসুদুর রহমান জানান, আমাদের মাদ্রাসার ভবনটিও জরাজীর্ণ। এ ছাড়া একটি টিনশেড ভবনে কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হতো। তবে কয়েক মাস আগে আকস্মিক ঝড়ে ওই টিনশেড ভবনটি তছনছ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ পাকা ভবনটির যেসব শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, সেখানেই একেকটি ক্লাসরুমে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান হয়। কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থী একটি রুমে বসায় সঠিকভাবে পড়া বুঝতে পারছে না। ফলে এই মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুতসময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আলামিন, ইয়াসিন, তৈয়বুর রহমান বলে, আমাদের পরিস্থিতি এখন এমন- যেন মাদ্রাসায় আসার জন্য আসা! কারণ মাদ্রাসার একটি ক্লাসরুমের মধ্যে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বসে পড়ালেখা করছি। এতে করে আমাদের শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন তা ঠিকমতো বুঝতে পারছি না। আমরা শিক্ষার্থীরাও দ্রুতসময়ের মধ্যে পরিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষসহ একটি নতুন পাকা ভবন নির্মাণের দাবি করছি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. অলি উল্যাহ জানান, নতুন ভবনের জন্য আবেদন করে রাখা হয়েছে। তবে আবেদন যেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কেবল জমাই পড়ে রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। দুর্ভোগ নিয়েও সবাই নিয়মিত মাদ্রাসা আসছে ও পাঠদান করছে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মদন মোহন মণ্ডল বলেন, উপজেলার সকল ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে পূর্ব চরউমেদ আহম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভবনটি সত্যিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাদ্রাসাটিতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুনরায় তালিকা পাঠানো হবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৫/১২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
