এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকের উপর বখাটে শিক্ষার্থীদের হামলা, পরীক্ষা বন্ধ

জামালপুরঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শিক্ষকের উপর বখাটে শিক্ষার্থীর হামলার ঘটনায় পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসায় পরীক্ষার হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করলে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা বন্ধ করেদেয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসায় মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে ৬ষ্ট থেকে ৯ম শ্রেণির শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক রমজান আলী পরীক্ষার ২ নং কক্ষে সকাল ১০ থেকে পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ করে মাদ্রাসার অফিস সহকারী (কাম-কম্পিউটার অপারেটর) সাইফুল ইসলাম এর ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া বখাটে ছেলে রাকিব এর নেতৃত্বে আল আমীন, শাকিল, সোহান, আপেল, মাহিমসহ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক রমজান আলী’র কোর্টের কলার ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে টানা হেঁচড়া কিল-ঘুষি শুরু করে। এসময় মাদ্রাসার আয়া আঞ্জুমানোয়ারা ফিরাতে গেলে তার মোবাইল নিয়ে নেয় এবং শিক্ষক রমজান আলীর মোটর সাইকেলের চাবি নিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় মাদ্রাসার সুপার আইয়ূব আলী পরিস্থিতি শান্ত করতে কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক রঞ্জু, সাবেক বিদ্যোৎসাহী সদস্য আব্দুল আজিজ ও সাবেক সদস্য আব্দুল মান্নান সহ স্থানীয় লোকজন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার অনুরোধ করলেও তিনি আমলে নেননি। এছাড়াও মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী নজরুল ইসলাম (রাজীব) পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে। সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার রুহুল আমীন বেগ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পেরে পরীক্ষার খাতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাড়ি চলে যায়।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার আইয়ুব আলী জানান, মাদ্রাসার উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার রুহুল আমীন বেগ এবং সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ বিষয়টি জেনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমি এ ঘটনার কোন ইন্ধন যোগান বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি ওসি সাহেব কে অবগত করে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারকে পাঠানো হয়। এ বিষয়টি তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১০/১২/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.