এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকদের হাতুড়ি পে-টা-য় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন অধ্যক্ষ

রাজশাহীঃ সহকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার রাজাবাড়ি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা। কলেজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের রাতে (৫ আগস্ট) কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাসায় ঢুকে স্ত্রীর সামনে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করা হয় অধ্যক্ষকে। শুধু তাই নয়, বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, মোবাইল ও কলেজের ল্যাপটপও নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন শিক্ষক সেলিম রেজা। মাঝে দুইবার আইসিইউতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেলিম রেজার স্ত্রী লায়লা পারভীন।

হামলার শিকার অধ্যক্ষের স্ত্রী লায়লা পারভীন জানান, গত ৫ আগস্ট রাতে রাজশাহীর কোর্ট পূর রায়পাড়ার নিজেদের বাসায় দুজন টিভি দেখছিলেন। হঠাৎ করে পৌনে ১১টার দিকে বাসার সামনে মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৩০ জনের মতো মানুষ বিকট শব্দে হর্ন দেওয়ায় বারান্দায় গিয়ে লোকজন দেখতে পেয়ে দ্রুত রুমে চলে আসেন।

সোমবার (২৬ আগস্ট) রাতে তিনি বলেন, ‘মানুষগুলো বাড়ি ঘিরে ফেলে। আমার স্বামী বাসায় আছে কি না জানতে চায়। ভয়ে বলি তিনি ঢাকায় আছেন। এর মধ্যেই গেট ভেঙে সবাই বাসায় ঢুকে আমার সামনে স্বামীকে বেধড়ক মারতে থাকে। সবার হাতে হাতুড়ি, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ছিল।’

মারধরের সময় কয়েকজনকে চিনতে পেরেছেন জানিয়ে অধ্যক্ষের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামীর কলেজের মার্কেটিংয়ের শিক্ষক আহাদুজ্জামান নাজিম ও তার ভাই, সঙ্গীত বিভাগের শাহীন আক্তার, পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে আমি চিনতে পেরেছি। এরা সবাই বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক। মাউশি থেকে তাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। হামলার সময় বলছিল তাদের বরখাস্ত হওয়ার আদেশ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা না করলে স্বামীকে মেরে ফেলবে।’

অভিযোগের বিষয় জানতে শিক্ষক আহাদুজ্জামান নাজিমকে ফোন করা হলে সোমবার রাতে তিনি বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে শুনলাম প্রিন্সিপালের ওপর হামলা হয়েছে। শুনেছি তিনি অসুস্থ। ঢাকায় আছেন। আমরা কেন হামলা করবো। এটা মিথ্যা কথা।’

এসময় তিনি বলেন, ‘এই অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগের লোক। আমাদের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর খাস লোক ছিলেন। আমাদের অন্যায়ভাবে বেতন বন্ধ করে রাখা হয়েছে তার কারণে। এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন।’

এ বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে রাজাবাড়ি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হায়াত  বলেন, ‘অধ্যক্ষের ওপর হামলার বিষয়টি দুদিন আগে তার স্ত্রী আমাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। আমরা এখনো বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারিনি। অল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।’

অবশ্য হামলার এতদিন পর বিষয়টি অবহিত হওয়া নিয়ে ইউএনও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এতদিন পর কেন জানানো হলো সেটা বোধগম্য নয়। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে কি না সেটাও দেখতে হবে।’

অবশ্য বিলম্বের কারণ হিসেবে অধ্যক্ষের স্ত্রী বলেন, ‘যেদিন সরকার পতন হয়েছে সেদিনই ঘটনা ঘটেছে। কোনো থানা পুলিশ কিছু ছিল না। আর আমার স্বামী মুমূর্ষু অবস্থা। তাকে নিয়ে আমাকেই হাসপাতালে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। যে কারণে বিলম্ব হয়েছে।’

অধ্যক্ষের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথমে রাজশাহীর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর তাকে সেখানকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করি। অবস্থা খারাপ হলে আইসিইউ গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় গত ১১ আগস্ট। এখানেও আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে সাধারণ বেডে নরমাল অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। জানি না সে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে কি না। আমরা এই হামলার বিচার চাই।’

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৭/০৮/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.