এইমাত্র পাওয়া

লাইসেন্সের জন্য ৭ লাখ আবেদন

সড়কে নিরাপত্তায় নতুন আইন প্রণয়ন করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) তথা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দেশের সাধারণ মানুষের বাহবা পেলেও ইতোমধ্যেই বিধি প্রণয়নের অভাব নিয়ে কথা ওঠেছে। এরই মধ্যে বড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সেবাপ্রার্থীদের যথাসময়ে চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ব্যর্থতার বিষয়টি। দেশজুড়ে এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স সংকট স্পষ্ট হয়ে গেছে।

একদিকে প্রভাবশালীদের চাপ, অন্যদিকে লাইসেন্সের জন্য জমে থাকা সাধারণ মানুষের ৭ লাখ আবেদনের বোঝা। লাইসেন্সের চাপে রীতিমতো কুঁজো হয়ে গেছে বিআরটিএ। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে।

এমন কঠিন অবস্থায় কী করবেন, বুঝে ওঠতে পারছেন না সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, স্রেফ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংকটেই ডুবতে যাচ্ছে সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি। এই যখন পরিস্থিতি, তখন পরিবর্তন এসেছে সংস্থাটির প্রধান অর্থাৎ চেয়ারম্যান পদেও। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগের অপরিকল্পিত পথচলার মাসুল দিতে হবে নতুন এই নেতৃত্বকেও।

সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান আমাদের সময়কে গতকাল বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যাচ্ছে না; এটা ঠিক। দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে। সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও তদারকিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

সময়মতো লাইসেন্স কার্ড সরবরাহে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়ায় না যাওয়ায় তৈরি হয়েছে এ দুরবস্থা। দেরিতে টের পেয়ে বিআরটিএ অতিরিক্ত কার্ড ছাপানোর উদ্যোগ নিলেও তাতে লেজেগোবরে দশা সৃষ্টি হয়। ফলে থেমে যায় ওই প্রক্রিয়া। এখন লাইসেন্স কার্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে দরপত্র প্রক্রিয়া অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ার সময় যখন, তখন তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে একের পর এক অভিযোগের তীরে এবং বিভিন্ন মহলের চাপের কারণে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে চলছে তদবির, আসছে চাপ।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে এখন ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভয়াবহ সংকট চলছে। লাইসেন্স মুদ্রণে দরপত্র আহ্বান এবং কার্যাদেশ প্রদান নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিআরটিএ। একদিকে দরদাতা বাছাই শেষে কার্যাদেশ প্রদানের প্রস্তাব পাঠানো নিয়ে আসছে নানা চাপ। অন্যদিকে গ্রাহকেরও চাপের মুখে পড়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টকার্ড সংকট শুনতে শুনতে গ্রাহকরা এখন অনেকটাই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জেগেছে, সমস্যার উত্তরণে আগে থেকে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? এর উত্তর নেই কারও কাছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন রাজধানীর মিরপুর বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষায় পাসের পর কার্ড সরবরাহের জন্য প্রথমে তিন মাসের সময় দেওয়া হচ্ছে। এরপর নির্ধারিত তারিখে কার্ডের জন্য হাজির হলে আরও ৬ মাস পরের আরেকটি তারিখের কথা বলা হচ্ছে। সেই ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কার্ড প্রদান করা সম্ভব হবে না এবং ফের সময় নিয়ে নতুন আরেকটি তারিখ দেওয়া লাগবে-এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে খোদ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কথায়। তাই সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

লাইসেন্সপ্রার্থীরা বলছেন, এক থেকে দেড় বছর ধরে শোনা যাচ্ছে কার্ড কম। লাইসেন্সের জন্য যোগ্য গড়ে প্রতিদিন এ রকম ৪শ ব্যক্তি বিআরটিএর মিরপুর অফিসে ছবি তোলার জন্য গিয়ে থাকেন। মিরপুর ছাড়াও ঢাকার উত্তরা, ইকুরিয়া অফিসেও তাদের ভিড় থাকে। ঢাকাসহ সারাদেশে বিআরটিএর ৫৭টি সার্কেল অফিস রয়েছে। সব অফিসেই সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভিড় ও ভোগান্তি দেখা গেছে লাইসেন্সের জন্য। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে মিরপুর অফিসের জন্য মাত্র ২০টি কার্ড। অন্য সার্কেল অফিসে এ সংখ্যা আরও কম। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা অফিসে ১০টি, অন্য বিভাগীয় শহরে ৫টি এবং কিছু অঞ্চলে দিনে ৩টি করে স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে।

সাদেক মিয়া গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আরেকটু ভালোভাবে বাঁচার আশায় বিদেশ যেতে চান। এজন্য ৩ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন দালালের কাছে। কিন্তু লাইসেন্স এর স্মার্টকার্ড হাতে না পাওয়ায় তার বিদেশযাত্রা স্থগিত হয়ে গেছে। ধার-দেনা করে জমা দেওয়া টাকার ভবিষ্যৎ কী জবাব নেই তার কাছে। লাইসেন্স সরবরাহের সংকটের কারণে এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন পেশাদার হালকা যানের চালক সাদেক মিয়া। জরুরি বিবেচনায় লাইসেন্স সরবরাহ করছে এমনটি তুলে ধরলে সাদেক আমাদের সময়কে বলেন, সেক্ষেত্রে ভিসা-টিকিটের কপি জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক বিআরটিএ অফিসে জমা দিতে না পারায় জরুরি হিসেবে আবেদনটি গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্টরা।

একই অবস্থা ডিএম১-১৯০২৯০ নম্বর কার্ডের। পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এ বছরের ৪ জুলাই আবেদন জমা দিলে প্রথমে তাকে ২৩ অক্টোবর কার্ড সরবরাহের তারিখ দেওয়া হয়। এরপর মিরপুর অফিসে গেলে নতুন তারিখ দেওয়া হয় আগামী বছরের ৬ এপ্রিল। এ তো গেল পরীক্ষা শেষে কার্ড সরবরাহের বিষয়। শিক্ষানবিস লাইসেন্স প্রার্থীদের অবস্থাও তথৈবচ। শুধু একদিনের তথ্য তুলে ধরলেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। গতকাল যারা শিক্ষানবিস লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছেন, তাদের পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ দেওয়া হয়েছে আগামী বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি। আগে তারিখ দেওয়া হতো ন্যূনতম এক বছর মেয়াদি। লাইসেন্স সংকটের কারণে এখন দালাল-মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেট ভারী হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে সব তথ্য-প্রমাণাদি জমা দেওয়ার পার লাইসেন্সপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ আসছে। এহেন কা- বছর দেড়েক ধরেই চলছে। কিন্তু এর সমাধানের পথ আজো দেখা যায়নি।

লাইসেন্স সরবরাহের পরিসংখ্যাণ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছর হঠাৎ করে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। সে সময় রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর প্রধান সড়কে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। তারা নিজেরাই গাড়ি ও চালকের কাগজপত্রও নিরীক্ষা করতে শুরু করেন। এ কারণে গত বছর হঠাৎ করেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা প্রত্যাশাতিত রকমের বেড়ে যায়। এ ছাড়া নতুন সড়ক আইন অনুযায়ী লাইসেন্স না থাকার অপরাধে প্রথমবার ৫ হাজার টাকা ও দ্বিতীয়বার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের। এ কারণেও লাইসেন্স প্রত্যাশীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

বিআরটিএতে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ আবেদন জমা রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য। অথচ দিনে গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে একশরও কম। গত ৫ দিনে ডেলিভারির নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সারাদেশের ৫৭টি সার্কেল অফিস মিলিয়ে সর্বমোট যথাক্রমে ১১২, ১০৪, ১১১, ৫৯ ও ১০৮টি কার্ড সরবরাহ করেছে। নভেম্বর মাসে সারাদেশে কার্ড ডেলিভারির সংখ্যা সাকল্যে ১ হাজার ৯৪২টি। অথচ দিনে ৪ হাজার কার্ড সরবরাহের কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। চাইলে আরও দুই হাজার কার্ড সরবরাহ করতে পারে মুদ্রণকারী ভেন্ডর।

একদিকে বিপুল চাহিদা অন্যদিকে সক্ষমতা সত্ত্বেও হাতেগোনা কয়েকটি কার্ড মুদ্রণের কারণ জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী কার্ড মুদ্রণ করা হয়। বিআরটিএর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেন। তাদের মতে, চুক্তি অনুযায়ী কার্ডগুলো এক সঙ্গে মুদ্রণ করে দিলে পরে বড় ধরনের বিপদ দেখা দেবে। তাই জরুরি বিবেচনায় সীমিত পরিসরে কার্ড সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে পাঁচ বছরে ১৫ লাখ লাইসেন্স সরবরাহের জন্য টাইগার আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় বিআরটিএ। তাদের সময়সীমা ২০২২ সাল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বেশি কার্ড ছাপাতে হয় চাহিদার কারণে। এ পর্যন্ত ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৮টি কার্ড। এর মধ্যে পেশাদার লাইসেন্স ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮টি এবং অপেশাদার লাইসেন্স ৬ লাখ ৪০ হাজার ৩৯০টি। সেই হিসাবে ৬২ হাজার ৫৭২টি কার্ড সরবরাহ করবে চুক্তিবদ্ধ ভেন্ডর। কিন্তু এখনই এসব কার্ড সরবরাহ করে দিলে পরবর্তীতে বড় ধরনের বিপত্তির আশঙ্কা থেকে যায় বলে গুরুত্ব বিবেচনায় এখন খুবই সীমিত পরিসরে কার্ড দিচ্ছে বিআরটিএ।

দরপত্র নিয়ে যত কাণ্ড

নতুন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স মুদ্রণের জন্য চলতি বছরের ১০ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর ৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দেয়-এক. আইবিসিএস ও এসইএলপি; দুই. লজিক ফোরাম ও এমএসপি এবং তিন. পিএনএমবি ও বাবর। এগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন যোগ্য বিবেচিত হয় আইবিসিএস ও এসইএলপি নামের প্রতিষ্ঠানটি। দরপত্র মূল্যায়নকালেই এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় আরেক প্রতিষ্ঠান এমএসপি।

এ নিয়ে অভিযোগ যাচাই শেষে সেলপ (এসইএলপি) নামের প্রতিষ্ঠানটিকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। এরপর প্রস্তাবটি পাঠানো হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে প্রস্তাবটি অনুমোদনে পাঠানোর কথা সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। তার আগেই এ নিয়ে প্রভাব খাটানো এবং চাপ দেওয়ার অভিযোগ আসে। তাই এ নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কার্যক্রমের ওপর পর্যালোচনা করেন। সেখানে ৪টি অভিযোগ ও এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষণ দিয়ে মতামত পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে গত ১ ডিসেম্বর সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয় বিআরটিএ অফিসে। এর মাধ্যমে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতে ‘অসামঞ্জস্যতা/অনিয়মের’ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ আকারে তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে নতুন করে জবাব চাওয়া হবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে। একই সময়ে এ দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য চাপ আসতে শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন একাধিক ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে দরপত্র আহ্বান করলে আরও এক বছর পিছিয়ে যেতে হবে। কার্যাদেশ শেষে যন্ত্রপাতি আমদানিসহ মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় যেতে মোট দেড় বছর লাগবে। এমনিতেই ৭ লাখ আবেদনের বোঝা বিআরটিএর কাঁধে। এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে মধ্যবর্তী সংকট নিরসনের জন্য বর্তমান প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটিকে কাজ দিতে চেয়েছিল বিআরটিএ। বিদ্যমান চুক্তির অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ তথা সাড়ে ৪ লাখ কার্ড ছাপানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। টাইগার আইটি বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত এমন যুক্তিতে প্রস্তাবটি গত ২৮ আগস্ট নাকচের পর ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয়।

এদিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগেই টাইগার আইটিকে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ কার্ড মুদ্রণের জন্য চিঠি দেয় বিআরটিএ। আবার এমএসপিকেও কার্ড ছাপানোর জন্য অনুরোধ করে চিঠি দেয় সংস্থাটি। এ প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়া সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে চিঠি দেয় বিআরটিএ। এর মধ্যে বিষয়টি আইনি জটিলতায় গড়ায়। ফলে থেমে যায় ওই প্রক্রিয়া। বলা হয়, এ প্রতিষ্ঠান বর্তমান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। আবার একই প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের দরপত্রে দ্বিতীয় সর্বনি¤œ হয়েছিল। সব মিলে প্রতিষ্ঠানটিকে বিনা দরপত্রে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া ঝুলে যায়।

বর্তমানে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পাদন ছাড়া বিশেষ বিবেচনায় অতিরিক্ত কার্ড মুদ্রণ বিধিবদ্ধভাবে কঠিন হয়ে গেছে। এখন দরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে অভিযোগ এবং ‘রেসপনসিভ’ দরদাতার বিরুদ্ধে আরেক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত-তা বুঝে ওঠতে পারছে না বিআরটিএ। ফলে প্রক্রিয়াটি ঝুলে যাচ্ছে। অন্যদিকে কার্ড সংকটে ক্রমেই বাড়ছে সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, যা সাত লাখ আবেদনকারীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। অবশ্য এ থেকে পরিত্রাণে বিকল্প পরিকল্পনাও করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সূত্রমতে, নতুন করে দরপত্র আহ্বান কিংবা বর্তমান পদ্ধতিতে কালক্ষেপণ হলে জরুরি বিবেচনায় বিনা দরপত্রে কার্ড মুদ্রণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সেটি হতে পারে সেনাবাহিনীর অধীন বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমে। বিএমটিএফের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে গত ১০ অক্টোবর। এরও আগে বিআরটিএ ও বিএমটিএফের মধ্যে গত ১০ ও ১১ জুন এ সংক্রান্ত চিঠি চালাচালি হয়।

বিএমটিএফের সর্বশেষ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি স্মার্টকার্ড ৪.২৫ ডলারে সরবরাহ করতে তারা প্রস্তুত। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে সরাসরি পদ্ধতিতে বিএমটিএফের মাধ্যমে লাইসেন্স সরবরাহ করার প্রস্তাবটি মাথায় রাখছে বিআরটিএ। তবে তার আগে বর্তমান দরপত্র প্রক্রিয়ায় চাপ উপেক্ষা করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে কিনা? এমন প্রশ্নও উঠে আসছে।

গাড়ি বনাম লাইসেন্স

বর্তমানে ৪২ লাখ ১৭ হাজার ৫২৩টি গাড়ি রয়েছে। এর বিপরীতে লাইসেন্স রয়েছে ৩৬ লাখ ২ হাজার ৪১৯টি। বাস রয়েছে ৪৯ হাজার ২৭২টি, কার্গো ভ্যান ৯ হাজার ৭০১টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৩ হাজার ৮৪৬টি, বিশেষ বাহন ১১ হাজার ৪৮৬টি, ট্যাংকার ৫ হাজার ৭৩২টি, ট্রাক ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪টি। এর বিপরীতে ভারী লাইসেন্স রয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২০টি। ২ লাখ ৬১ হাজার ৮২১ গাড়ির তুলনায় এ লাইসেন্স কম। এবার হালকা বাহনের মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স, হিউম্যান হলার, জিপ, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্যাক্সিক্যাব মিলে রয়েছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৪৮টি। এর বিপরীতে লাইসেন্স রয়েছে ১৯ লাখ ২১ হাজার ৯২৮টি।

এবার মাঝারি আকারের গাড়ি ডেলিভারিভ্যান, মিনিবাস, ট্রাক্টর মিলে ৫৯ হাজার ৫৫৪টি গাড়ির জন্য লাইসেন্স রয়েছে ৯৫ হাজার ৫০৩টি। এ ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ৭০ হাজার গাড়ির বিপরীতে মাত্র ৯২১টি লাইসেন্স আছে। থ্রি হুইলার ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬০টি গাড়ির বিপরীতে লাইসেন্স আছে ৬৮ হাজার ৬৪৪টি। আর দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেল আছে ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫৪টি। এর বিপরীতে লাইসেন্স আছে ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৭০৩টি।

পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের অধিকাংশই লাইসেন্সবিহীন। এখন লাইসেন্স করতে গেলেও লার্নার কার্ড, পরীক্ষা ও স্মার্টকার্ড পেতে বড় বিড়ম্বনায় পড়ছেন আবেদনকারীরা। এ কারণে বিদেশ যাওয়া বা সরকারি চাকরি পেতেও অসুবিধা হচ্ছে। তাই ঘুষ লেনদেনের অবস্থা বেড়েছে। সহসা এই সংকট থেকে রেহাই পাওয়া যাবে সেই সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.