ক্রীড়া প্রতিবেদক :
ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে মেয়েদের কুমি অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে বাংলাদেশের হয়ে সোনা জিতেছিলেন মারজানা আক্তার প্রিয়া। ২৪ ঘণ্টা পর তিনি সোনা জয়ের লড়াইয়ের পথে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কোচ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রিয়ার অবস্থা গুরুতর। দোয়া করবেন।’
বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলগত কুমির সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলে ছিলেন গতকালের সোনাজয়ী হুমায়রা আক্তার অন্তরা, মারজানা আক্তার প্রিয়া ও প্রথম দিন রৌপ্য জেতা মাউনজেরা বন্যা। প্রথম ম্যাটে নামেন বন্যা। তিনি আহত হয়েও ৮-৪ ব্যবধানে জিতে ম্যাট ছাড়েন।
এরপর ম্যাটে নামেন প্রিয়া। শুরুতেই শ্রীলঙ্কার বান্দারা তার পেটে আঘাত করেন। তাতে শুরুতেই চিকিৎসা নিতে হয়। এরপর বান্দারা তার মুখে আঘাত করে। ঠোঁট ফেটে রক্ত বেরোয়। আবার চিকিৎসা নেন। তখন বান্দারা ১-০ পয়েন্টে এগিয়ে। সময় হাতে ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। চিকিৎসা নিয়ে টলতে টলতে আবার ম্যাটে আসেন। বেশ কিছুক্ষণ লড়াই করেন। এ সময় বান্দারার একটি আঘাত তার মাথায় লাগে। ম্যাচ শেষ হতে তখনও ৪৭ সেকেন্ড বাকি। প্রিয়া টলতে থাকেন। রেফারির নির্দেশে মেডিকেল টিম আবার ম্যাটে ওঠে। প্রিয়ার রক্তচাপ মাপে, আইস ব্যাগ ঠোঁটে লাগায়। কিন্তু প্রিয়া ওঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না।
মেডিকেল টিমের হাতে ভর দিয়ে ম্যাট ছাড়েন। একটা সময় জ্ঞান হারান। ভেন্যুতে উপস্থিত ডাক্তাররা নানা চেষ্টা করতে থাকেন। প্রিয়ার চোখ বার বার বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। মেডিকেল টিম চেষ্টা করছিল তাকে অচেতন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে। ভড়কে যায় মেডিকেল টিমের সবাই। অস্থির হয়ে ওঠে তারা। একটা সময় অ্যাম্বুলেন্সে করে পাশের হাতপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় সরকারি হাসপাতালে।
দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ায় শঙ্কামুক্ত হয়েছেন তিনি।
কোচ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রিয়া মাথায় আঘাত পেয়েছে। কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবু ক্য শৈ হ্লা জানিয়েছেন, গাল আর ঘাড়ের মাঝামাঝিতে সে আঘাত পেয়েছে। মেডিকেল টিমের মতে, পেটেও সে আঘাত পেয়েছে। দৃশ্যমান ঠোঁটের আঘাত তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
