কুষ্টিয়াঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমে গেছে। গত তিনটি শিক্ষাবর্ষে মাত্র চারজন বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার যথেষ্ট পরিবেশ না থাকা, টিউশন ফি বাড়ানো, সেশন জটসহ অব্যবস্থাপনা রয়েছে। এছাড়া বিদেশী শিক্ষার্থীসংক্রান্ত কাজকর্ম পরিচালনায় একটি ফরেন সেল রয়েছে। নির্দিষ্ট অফিস বা লোকবল নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা কারো সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেন না। এ কারণেও অনেক ভর্তি হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অনেকে ভর্তি হলেও কেউ কেউ তা বাতিল না করেই নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একজন বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন তিনজন। তবে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হননি। বিভিন্ন সময় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন ২০ জনে এসে ঠেকেছে।
কয়েকজন বিদেশী শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ভালো নয়। বিশেষ করে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে চান না। বেশির ভাগ দিনই শিক্ষকরা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন। আবার অনেকেই ক্লাসে বিদেশী শিক্ষার্থী রয়েছেন, তা মনেই করেন না। সাধারণ বাংলায় পড়িয়ে চলে যান। অনেক শিক্ষকই ইংরেজিতে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন না।
নেপাল থেকে আসা ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, স্কলারশিপ নিয়ে ভর্তি হলেও সব ফি দিতে হয়। খরচ বেশি হওয়ায় তিনি এখানে পড়তে আগ্রহ বোধ করছেন না। তবে নিরূপায় হয়ে তাকে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছেন।
এদিকে বিদেশী শিক্ষার্থীসংক্রান্ত কাজকর্ম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফরেন সেল রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অফিস বা লোকবল নেই। অন্য সেল থেকে এক কর্মকর্তাকে সেখানে রাখা হয়েছে। সাহাদাৎ হোসেন নামে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্দিষ্ট লোকবল নেই এ সেলে। নির্দিষ্ট অফিসও নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা নিজ দেশে স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করি। ফরেন সেলের কোনো অবদান নেই। দীর্ঘদিন ধরে ওই সেলে কাজ করলেও আমার জন্য বিশেষ কোনো ভাতা বরাদ্দ নেই। এজন্য কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।’
ফরেন সেলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা জামাল। তিনি বলেন, ‘যে অভিযোগগুলো উঠেছে তার বেশির ভাগই সত্য। এসব ক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা উত্তম, সেটি বলা মুশকিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্কলারশিপ দেয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। এ কারণে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আগ্রহটা হারিয়ে ফেলছে। এছাড়া একাডেমিক মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’ তবে একাডেমিক পরিবেশ ভালো থাকলে অবশ্যই বিদেশী শিক্ষার্থী এখানে আসতেন বলে মনে করেন তিনি।
স্কলারশিপ না পাওয়ার কারণে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে স্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘অন্য দেশে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ থাকে। এখানে সে সুবিধাও নেই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জেলা শহরেরও ২৫ কিলোমিটার বাইরে। এখানে কাজের সুযোগ একেবারেই নেই।’ এ সময় তিনি বিভাগগুলোর একাডেমিক মানোন্নয়নের ওপর জোর দেন। নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে চললে এত সংকটে পড়তে হতো না বলেও মনে করেন আবদুস সালাম।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
