এইমাত্র পাওয়া

১ টাকা লাভের বাজার হচ্ছে মানবতার ফেরিওয়ালা : সজল আহম্মেদ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ।।

পবিত্র মাহে রমযানে” ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হোক মাহে রমযান ” এই প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে মেহেরপুর জেলা কুতুবপুর সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যেগে চালু হয়েছে “১ টাকা লাভের বাজার”।

গতকাল বুধবার মেহেরপুর জেলা সুবিদপুর গ্রামে এই বাজার উদ্ভোধন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্তিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদ ও মেহেরপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সহ পুলিশ কর্মকর্তা আসমত আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকোষ দল ।

এ সময় ১ টাকা লাভের বাজারে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদ তিনি বলেন “১ টাকা লাভের বাজার” এই সুবিদপুর গ্রামের যুব সমাজের মহৎ উদ্যোগে এই বাজার, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা, এবং সারাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতিতে যেখানে মানুষ নৈত্য পণ্য কিনতে হিমসিম খাচ্ছে সেখানে তারা ১ টাকা লাভে ১১ টি পণ্য মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে।

তাদের এই মহৎ উদ্যেগকে আমরা সাধুবাদ জানাই, তারা নিজে উদ্যোক্তা হয়ে সমাজসেবা মূলক কার্যক্রম করে যাচ্ছে , এই কার্যক্রমকে এক কথায় বলা চলে “মানবতার ফেরিওয়ালা ” । আমি মনে করি এমন উদ্যোগ দেশের সকল যুব সমাজ যদি নেয় তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষের এ সকল পণ্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এবং সাধারণ মানুষ পণ্য গুলো বাড়ি বসে কিনতে পারবে। শুধু তাই নয় পণ্য বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গরিব অসহায়দের মধ্যে বিনামূল্যে ঈদ সামগ্রীও বিতরণ করবে তারা। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরসহ সচেতন মহল। এক টাকা লাভের পণ্য পেয়ে খুশি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। সংগঠনটি বলছেন, প্রতি রমজান মাসেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। মেহেরপুর জেলা ভোক্তা অধিদপ্তর পক্ষ থেকে আমরা তাদের হাতে শতাধিক প্যাকেট সেমাই অসহায় মানুষকে দেওয়ার জন্য তুলে দিয়েছি বিনামূল্যে ।

সেখানে আরো বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ,তিনি বলেন এমন ব্যতিক্রমী কাজ যুব সমাজ ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে । জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ইফতারসহ খাদ্যমূল্যের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। এই সুবিদপুরের যুব সমাজ এমন একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় অনেক ভালো লেগেছে যে তাদের এমন মহৎ কাজের গুলো নিজেরাই শ্রম দিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে । তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করব পাশে থাকার সেই সাথে তারা যেন সঠিক এবং নেয্য মূল্যে পণ্যগুলো ক্রয় করে অসহায় মানুষকে দিতে পারে। এক টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করায় তারা এলাকায় যেমন প্রসংশিত হচ্ছেন তেমনি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ পণ্য কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক মো. রাহিদুজ্জামান ও সদস্য রাজিব আলী, সুরুজ আলী, আব্দুল্লাহ খান, পিয়াল, মকিবুর রহমান, হুচাইন মিয়া, গালিব খান, আরিফ খান, সাকলাইন খান , রুবেল, সুমুন, সহ আরো অনেকে।

বিক্রিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে, ১১ টি আইটেম, মুড়ি ৪২ টাকা, লবণ ৩৮ টাকা, মসুরি ডাল ১০৬ টাকা, আলু ৩০ টাকা, সোলা ১০২ টাকা,সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা লিটার, সেমাই ৪০ টাকা, চিনি ১৩৫ টাকা,খেজুর ১৯০ টাকা, জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আগামী দিনগুলোতে বাড়ার সম্ভাবনাও আছে।

এক টাকা লাভে পণ্য কিনতে আসা আসমা বেগম বলেন, প্রথমত আমরা হাতের নাগালেই পণ্য কিনতে পারছি। দামও কম। সেই সঙ্গে আমাদের কাছ থেকে পণ্য বিক্রির যে টাকা লাভ হবে তা ওই সংগঠনের ছেলেরা না নিয়ে এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করবে। এটি অনেক ভালো উদ্যোগ।
এ সময় গঠনের পরিচালক মো. রাহিদুজ্জামান বলেন আমরা ১১ টি পণ্য নিয়ে অসহায় মানুষের মাঝে ১ টাকা লাভে তুলে দিচ্ছি। এবং আমাদের আরো চারটা স্টল আছে অন্যান্য এলাকা গুলোতে। আমাদের আগামীতে আরো বড় পরিসরে করার চিন্তাভাবনা আছে সংগঠনের, এবং প্রত্যেকটা মহল্লাতে এরকম ইনস্টল থাকবে যাতে করে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ১ টাকা লাভে আমরা পণ্যগুলো দিতে পারি। ১ টাকা লাভের বাজার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ৪ টা ও ইফতার পর থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
এই বাজার চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। তিনি আরো বলেন আগামীতে আমরা আরো বড়ো পরিসরে করব যদি আমরা বৃত্ত শীল মানুষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি সাহায্য পায়। আমাদের তার্গেট মেহেরপুর জেলার সকল ইউনিয়নে এমন স্টল থাকবে আমাদের যাতে করে সকল মানুষ যেন ১ টাকা লাভে পণ্য গুলো কিনতে পারে।

সংগঠনের সদস্য আদনান কাদির পিয়াল বলেন এই সংগঠন দীর্ঘ দিন ধরে সমাজে এমন উন্নয়ন মূলক কাজ করে আসছে । সেই ধারা বাহিকতাই এবার মাহে রমযানকে সামনে রেখে এমন ব্যতিক্রম উদ্যেগ গ্রহণ করেছি, যাতে করে সকল মানুষ তাদের চাহিদা অনুযায়ি পণ্য গুলো কিনতে পারে । এবং এই পণ্য বিক্রি করে যে টাকা লাভ হবে সেই টাকা দিয়ে সামনে ঈদ আসছে সেই ঈদে অসহায় যাদের কেনার ক্ষমতা নেই সেই মানুষ গুলো একদম বিনা মূল্যে ঈদ উপহার তুলে দিবো। সেই সাথে সামনে আরো অনেক গুলো পরিকল্পনা আছে সংগঠনের আগামীতে বাস্তবায়ন করবো আমরা ।

ক্রেতা আজগার আলী বলেন, সকাল থেকে সারাদিন গ্রামের কিছু যুবক মাত্র এক টাকা লাভে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করায় আমরা প্রথম রোজা থেকেই এখানে সব কিছু কিনে থাকি এবং শেষ পর্যন্ত কিনব। আমাদের কাছে লাভকৃত টাকা দিয়ে ছেলেরা বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবে। এতে আমিও অংশীদারিত্ব হতে পারছি।

শুধু আসমা বেগম বা আজগার আলীই নয়, গ্রামের সব মানুষই এখন এক টাকা লাভের বাজারে এসে ইফতার ও খাদ্যপণ্য কিনছেন প্রতিনিয়ত।

কুতুবপুর ইউপি উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। আমি নিশ্চয় এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে প্রতি বছরই আমি এমন সংগঠনের পাশে থাকতে চাই।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জোমান/২০/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.