কুষ্টিয়াঃ এবার নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রো ভিসির (উপ-উপাচার্য) অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে। গত রোববার রাতে ‘ইবির ভাইরাল নিউজ’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে এটি করা হয়েছে জানিয়ে গতকাল সোমবার এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন প্রো ভিসির ব্যক্তিগত সচিব সোহেল রানা।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন রহমান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের ‘কণ্ঠের মতো’ একাধিক অডিও প্রকাশ হয়। অডিওগুলোতে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন কথা বলতে শোনা যায়। ওই অডিও কাণ্ডে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
জিডিতে বলা হয়েছে, ‘আমি সোহেল রানা উপ-উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব গত ১০ মার্চ রাত ১১টায় ইবির ভাইরাল নিউজ নামক একটি ফেসবুক আইডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্যকে জড়িয়ে (বিশ্ববিদ্যালয়ের মালি নিয়োগ নিয়ে প্রো ভিসি খাম্বা মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ চন্দনের কথোপকথন ফাঁস। রশিদের চাকরি শিওর করেছেন প্রো-ভিসি খাম্বা মাহবুব শীর্ষক) একটি মিথ্যা স্ট্যাটাস দেয়।
বিষয়টি আমিসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখতে পেয়ে অজ্ঞাতনামা ফেসবুক আইডির সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। এমতাবস্থায় উপরিউক্ত বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে মালি পদে নিয়োগের জন্য টাকার বিনিময়ে রশিদ নামে এক চাকরি প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার কনফার্ম বার্তা দেওয়া হয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের পক্ষ থেকে। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একপাশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও অন্য পাশে উপ-রেজিস্ট্রার চন্দন কুমার দাসের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে।’
অডিও ফাঁসের পর ইবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারীকে অব্যাহতিঅডিও ফাঁসের পর ইবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারীকে অব্যাহতি
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার চন্দন কুমার দাস বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাজ করছে। আশা করি, তাঁরা তদন্ত করে সত্য বের করে আনবে। উপ-উপাচার্য মহোদয় এবং আমি একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করি। যদি আমাদের কোন কথার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আমরা সরাসরি কথা বলতে পারি। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার প্রশ্নই আসে না। তাই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বিষয়টা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র।’
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
