ঢাকাঃ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ধার্য করা কর কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না- আদালতের এমন নির্দেশনা থাকলেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে বাড়তি ফি’র খড়গ নামতে পারে এমন আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টিরা বলছেন, কর আরোপের প্রভাব স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পড়বে শিক্ষার্থীদের ওপর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে করারোপের আগের এবং পরের ফি তুলনা করে তা মনিটরিংয়ের পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে এখন থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। আপিল বিভাগের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, লভ্যাংশ থেকে মালিকরা কর দেবেন, কোনোভাবেই তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না।
হরহামেশাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর বাড়ছে নানা ধরনের ফি’র খড়গ। শিক্ষার্থীদের আশংকা, নতুন এই কর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিজেদের আয় থেকে দেয়ার কথা হলেও উন্নয়ন ফি বা বেনামি কোনো খাত দেখিয়ে তা আদায় করতে শিক্ষার্থীদের উপর ফি বাড়াবে।
অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর পরিশোধ করতে বেনামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় করতে পারে বলে আশঙ্কায় খোদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। তারা বলছেন, আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রিভিউ আবেদন করা হবে।
সংগঠনটির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ট্রাস্টি। এর উপর তো কোনো কর আরোপ হয় না। ফলে কোনো না কোনোভাবে তা শিক্ষার্থীদের উপর পড়বে। এছাড়া কোনো উপায় নেই।
কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, যারা উদ্যোক্তা তারা একবার টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে দেয়। এরপর পুরোটা চলে শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায়। ফলে এখন নতুন করে যে কর দেয়ার বাধ্যবাধকতা চালু করল সরকার তার চাপ শিক্ষার্থীদের বহন করা ছাড়া উপায় নেই।
সমিতি মনে করে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আয়ের বড় অংশ লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করে। তাই করারোপের ফলে মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
কবির হোসেনের মতে, যদি সরকারকে কর নিতেই হয় তাহলে বিদেশের মতো পদ্ধতি চালু করতে হবে। যেমন, ট্রাস্টি এবং বাণিজ্যিক। তখন যার ইচ্ছা সে ট্রাস্টির মাধ্যমে চলবে, যার ইচ্ছা সে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে চলবে। বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে চালানো বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা কর দেবে। নীতিমালাও ওইভাবে সরকার করে দেবে।
আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গৃহীত ফি এবং পরের ফি’র তুলনার পাশাপাশি কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হুট করেই নামে-বেনামে কোনো ফি বাড়াচ্ছে কি না- তা মনিটরিং করার পরামর্শ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালামের।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে নিয়মিত কঠোরভাবে মনিটরিংয়েরও পরামর্শ তার।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
