নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নতুন কারিকুলামে পাঠ্যক্রমে পরীক্ষা না থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে অভিভাবক মহলে। দাবি উঠেছে, পুরো কারিকুলাম বাতিলের। পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনেও নামেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি মেনে নিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।
ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে মূল্যায়ন পদ্ধতি ও কারিকুলাম সংক্রান্ত একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য বানানো ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে পরীক্ষা পূর্ণ নম্বরে হবে নাকি আংশিক নম্বরে হবে সেটি কমিটির সুপারিশের পর চূড়ান্ত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ও ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দিনব্যাপী এই বৈঠকে মূল্যায়নের জন্য বানানো ‘নৈপুণ্য অ্যাপ’ এবং নতুন কারিকুলামে কোন কোন দেশ থেকে রেফারেন্স নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত জানতে চান। এনসিটিবি থেকে সেসব তথ্য সরবরাহ করার পর কারিকুলাম এবং পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও মানোন্নয়ন সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা করে নতুন কমিটি গঠন করে দেন তিনি। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর চলতি বছরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
জানা গেছে, দুই বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৭টি শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম চালু করেছে সরকার। ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণি, ২০২৬ সালে একাদশ শ্রেণি এবং ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে পড়ানোর পাশাপাশি মুখস্থ নির্ভরতার পরিবর্তে দক্ষতা, সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে শেখাতেই পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি ছিল সংশ্লিষ্টদের। তবে, নতুন পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে বসতে চায় না বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। তাদের দাবি, পরীক্ষা না থাকায় বাচ্চারা পড়তে চায় না। তারা চান কমপক্ষে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা রাখা হোক। তাদের দাবির মুখে ৩০ থেকে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা রাখার চিন্তা করছেন নীতি নির্ধারকরা।
এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর ফরহাদুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকরা এমনটা দাবি করে আসছেন। যেহেতু একটি মূল্যায়ন পর্যালোচনা কমিটি হয়েছে তারাই সবার সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য একটি সুপারিশ করবেন। তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।
নতুন কারিকুলাম নিয়ে আন্দোলনরত অভিভাবকদের সংগঠন ‘সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনে’র আহ্বায়ক রাখাল রাহা বলেন, কারিকুলাম পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন করেছে- এটাকে প্রাথমিক বিজয় মনে করি। একই সঙ্গে কমিটি যেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মতামত নিয়েই প্রতিবেদন দেয় সেই দাবি থাকবে।
তিনি বলেন, কত নম্বরের পরীক্ষা থাকবে সেটা তারা পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করুক। তবে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে রাখার জন্য পরীক্ষা যেন থাকে সেই দাবি জানাচ্ছি।
এনসিটিবি জানিয়েছে, সারা দেশে কমপক্ষে তিন শতাধিক স্কুলে সশরীরে উপস্থিত থেকে উপযোগিতা যাচাইয়ের কাজ করা হবে। শহর, গ্রাম, উপকূলীয় এলাকার স্কুলকে দেওয়া হবে বেশি গুরুত্ব। সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের স্কুলে এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে থাকবে প্রতিবন্ধীদের স্কুলও। নেওয়া হবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত। সেগুলো লিখিত আকারে এনসিটিবিতে পাঠাবেন তারা। তাদের মতামত পাওয়ার পর বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
শিবা/জামান
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
