এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষককে গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিলেন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা

গাইবান্ধাঃ স্কুল মাঠ থেকে সড়কের দু’ধারে দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধ শিক্ষার্থী। সবার হাতে হাতে ফুল। সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের মাঝে অপেক্ষা করছে সাজানো একটি সাদা রঙের কার গাড়ি। আর এ গাড়িতে করে বিদায় শিক্ষক বাড়ি পৌঁছে দিলেন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা।

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে চাকরি জীবনের শেষ দিনে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্যের দেখা মিলল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর আলহাজ্ব তহুরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।

বিদায় শিক্ষক মোছা. মাহফুজা বেগম মিরার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই এ আয়োজন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীররা।

কর্মজীবনের শেষ দিনে এ ধরনের আয়োজন দেখে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন তিনি।

কার গাড়িতে উঠে শিক্ষক মোছা. মাহফুজা বেগম মিরা বলেন, কর্মজীবনের শেষ দিনে তাদের এ আয়োজনে মুগ্ধ করেছে আমাকে। এমন আড়ম্বরপূর্ণ বিদায় হবে আমার, এটা কখনো কল্পনা করিনি। সে কারণে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটানা ৩৩ বছর সময় দিয়েছি এই স্কুলে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কখনো ছুটি নেইনি। শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ বিভিন্ন কাজে আগ্রহী করে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।

এর আগে সকাল থেকে ওই বিদ্যালয় মাঠে চলে আলোচনা। সেখানে মিরার কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও জনপ্রতিনিধিরা।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাক এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেহেদী মোস্তফা মাসুম।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার বর্মন, সহকারী শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা কামাল, নিতাই চন্দ্র বর্মন, একেএম মনজুরুল ইসলাম, রওশন আরা বেগম, সাজ্জাদুর রহমান, শিক্ষার্থী মোবাশ্বিরা ইসলাম, ছামিয়া ইসলাম সাবা ও মৌমিতা ইসলাম প্রিয়া প্রমুখ।

প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষকের যে সকল ভালো গুণ থাকা দরকার মিরার মধ্যে তার সবগুলোই ছিলো। শ্রেণি কক্ষ ছাড়াও ক্রিয়াঙ্গনে তিনি ছিলেন বেশ প্রশংসিত। আমি তার জীবনের সাফল্যে কামনা করছি।

১৯৯১ সালের ৫ মার্চে এ স্কুলে যোগদান করেন মোছা. মাহফুজা আক্তার মিরা। ৩৩ বছর সময় দেন তিনি। দাম্পত্য জীবনে স্বামী ও সন্তান কেহই নেই তার।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০২/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.