এইমাত্র পাওয়া

বিপিএলেই পথ খুঁজছেন মুমিনুল

মুমিনুল তখন দেশের ক্রিকেটে অচেনা। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা উদীয়মান একজন ক্রিকেটার। অপেক্ষায় ছিলেন নিজেকে চেনানোর। প্ল্যাটফরমও পেয়ে যান ২০১২ সালে বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে। বরিশাল বার্নাসের হয়ে খেলেছিলেন দারুণ এক ইনিস। খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের বিরুদ্ধে ২৮ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। ওই ৫৩ রানই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে আজও বিশ্বাস করেন মুমিনুল। তাই তো স্মৃতির অ্যালবামে জমে থাকা ধুলোবালি ঝেড়ে ফিরে গেলেন ২০১২ বিপিএলে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান যেমন জানালেন, তার ক্রিকেটার সত্তার বিকাশ, পরিচিতি এবং ক্যারিয়ারের উত্থান ঘটেছে বিপিএল খেলে। এবারও বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্টকে ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের মঞ্চ বানাতে চান মুমিনুল।

যে টি২০ ক্রিকেট ভাগ্য বদলে দিয়েছিল, জাতীয় দলে খেলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, অনেকদিন সে আঙিনায় দাপুটে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়নি মুমিনুলকে। জাতীয় দলে খেলেন এক সংস্করণে। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে টেস্ট ক্রিকেটারের মোড়ক দিয়ে। আর এখন তো তিনি টেস্ট দলের অধিনায়কই। এই চাপিয়ে দেওয়ার চাপে মুমিনুলও ভুলে গেছেন একটা সময়ে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই ভালো খেলতেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলেও খেলতেন তিন সংস্করণে। তার টি২০ আর ওয়ানডে রেকর্ডস টেস্টের মতো উজ্জ্বল না হলেও মন্দ ছিল না। অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও হয়তো ভালো করতেন ‘মিনি’। মুমিনুল নিজেও তা বিশ্বাস করেন, ‘তিন সংস্করণে খেললে ভালো করার বেশি সম্ভাবনা থাকে। এর বড় কারণ হলো ম্যাচ খেলার বেশি সুযোগ থাকে। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকলে প্র্যাকটিসটাও ভালো হয়। সুযোগ-সুবিধা ভালো পাওয়া গেলে এবং মানসিকভাবে চাঙা থাকলে ভালো না করার কোনো কারণ নেই। খেয়াল করলে দেখবেন, প্রথম তিন বছর টেস্টে বড় বড় ইনিংস খেলেছি। তখন সব ধরনের ক্রিকেটে খেলার জন্যই টেস্টে ভালো করা সম্ভব হয়েছে।’

টেস্টে মুমিনুলের আট সেঞ্চুরির চারটিই এসেছে প্রথম দুই বছরে। সে সময় তার গড় ছিল ৬০-এর ওপরে। পরিসংখ্যান বিশ্নেষণ করলে দেখা যায়, তিন সংস্করণে খেলার সময় টেস্টে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন মুমিনুল। টাইগার টেস্ট অধিনায়ক এখনও স্বপ্ন দেখেন, হারানো দিনগুলো আবার ফিরে পাবেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন তিন সংস্করণেই। ৫০ ও ২০ ওভারের ক্রিকেটের রেকর্ডের পাতাও একদিন ভরে তুলবেন বড় বড় ইনিংস খেলে। সাত বছর আগে যে মঞ্চ দিয়ে উত্থান সেই বিপিএলকেই ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের হাতিয়ার করতে চান মুমিনুল। বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্ট খেলে আবারও জ্বলে ওঠার স্বপ্ন মুমিনুলের চোখে, ‘বিপিএল খেলেই আমি পরিচিতি পেয়েছি। বরিশালের হয়ে ৫৩ রানের ইনিংস খেলার পরই মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করে। জাতীয় দলেও খেলেছি ওই বছর।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পর সাদা বলের ক্রিকেট খেলেননি মুমিনুল। সাত মাস ধরে লাল বলে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট খেলছেন তিনি। বিপিএলের জন্য সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি হতে হচ্ছে টপঅর্ডার এ ব্যাটম্যানকে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ঢাকা প্ল্যাটুনের হয়ে খেলবেন তিনি। যে দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গত দুই দিন সালাউদ্দিনকে নিয়েই সাদা বলে নেট সেশন করেছেন মুমিনুল। লাল বল থেকে ফোকাসটা সাদা বলে আনতেই একটু আগে থেকে মাঠে নামা তার, ‘ক্রিকেট খেলা বেশিরভাগই মনস্তাত্ত্বিক। মানসিকভাবে যে যত শক্তিশালী হবে সে তত ভালো করবে। বিপিএলের জন্য আমি মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। লক্ষ্য একটাই, যত বেশি রান করতে পারি।’ যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, তাতে করে আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট পেয়েও যেতে পারেন মুমিনুল।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.