দেবদুলাল মুন্নাঃ লীলাবতী নাগ। সেই কবে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন তিনি। প্রথম ছাত্রী। লন্ডন সেটেলড হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। যাননি।
তিনি প্রথম বড়লাট এলে নত মস্তকে সম্মান দেখাতে অস্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘একজনকে সম্মান দেখাতে গিয়ে যদি অন্যের মাথা নত করতে হয় তবে তো নিজেকেই অসম্মানিত করা হয়’। জেল খাটেন এ অপরাধে। ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করার জন্য ঢাকায় এলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেসময় লীলা নাগ বলেছিলেন, ‘জমিদার কবি’। লীলা নাগের বিপ্লবী কর্মকাণ্ড সহ্য করতে পারেনি কেউই, না পাকিস্তানি শাসক, না ব্রিটিশ। ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন। সেসময় সুভাষচন্দ্র বসুকে একটা চিরকুট লেখেছিলেন। সুভাষ আত্মগোপনে ছিলেন। চিরকুটের ওপরে লেখা, ‘রহো’। এর নিচে লেখা, ‘মাঝেমধ্যে রাতে ডাক শুনি। কান্না শুনি মানুষের। দেশ থেকে দেশে মানুষের পাশে যেতে চাই। আপনার মতো। জানবেন’। এসব কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক প্রফুল্লকুমার গুহ (আমাদের সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৪) বইতে আছে। প্রফুল্ল তার বইতে জানাচ্ছেন, কোলকাতায় তার সঙ্গে দেখা হলে জানতে চেয়েছিলাম, দেশের কথা মনে পড়ে না? লীলা বলেছিলেন, ‘দেশ আছে এবং থাকে স্বপ্নে। বাস্তবে দেশহীনই থাকে বেশিরভাগ মানুষ জেনে বা না জেনে’।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৩/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
