ঢাকাঃ বিভাগের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফরের টাকা আত্মসাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অফিস সহায়ক মো. এহসানুল হক। এ ঘটনায় গত ১৯ জানুয়ারি রাতে এহসানুল হক ও ফরহাদ হোসেন নামে আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এহসানুল হক ও ফরহাদ হোসেন যোগসাজশে ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসফরের জন্য এক লক্ষ টাকা ও নৃত্যকলা বিভাগের আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ২৩ হাজার ১২৫ টাকা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। চেক জালিয়াতির ক্ষেত্রে তারা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ও নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান মনিরা পারভীনের অফিসিয়াল সিল ও স্বাক্ষর নকল করেছেন।
এহসানুল হক ও ফরহাদ হোসেন নিউমার্কেট থানার কলেজ এরিয়া এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একসাথে থাকতেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, এহসানুল হকের ঢাবি প্রক্টর অফিসে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী নিউমার্কেট এলাকায় তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৯ তারিখ রাত ৩টা ৪০ মিনিটে এক লক্ষ টাকা উদ্ধাজানা যায়, এমন লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিন, চেয়ারম্যান, প্রাধ্যক্ষ এমন পদের ব্যক্তিদের দুই জায়গায় স্বাক্ষর ও সিলের প্রয়োজন হয়। পে অর্ডারে এবং চেকের পেছনে।
এক্ষেত্রে এই দুটি চেক জালিয়াতিতে তারা পে অর্ডারে এবং চেকের পেছনে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সিল নকল করেছে।
হিসাব পরিচালক দপ্তর, প্রক্টর অফিস ও প্রশাসনিক ভবনের চারটি সূত্র থেকে জানা যায়, ব্যাংক থেকে এমন টাকা তুলতে হলে এখন ব্যাংককে যিনি চেক তুলছেন তার একটি পরিচয়পত্রের কপি দিতে হয়। এই চেক জালিয়াতিতে এহসানুল হক নিজের পরিচয়পত্র দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাকে শনাক্ত করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ।
চেক জালিয়াতিতে হিসাব পরিচালক দপ্তরের বিভিন্ন শাখায় আরো অনেকে জড়িত আছে। সাথে ব্যাংকেও কেউ না কেউ এর সাথে জড়িত আছে। একটি চক্রের মতো তার কাজ করে। যার কারণেই সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের চেক জালিয়াতি করেছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অফিস সহায়ক।
সার্বিক বিষয়ে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি।
ওদিনই তাকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সে বর্তমানে আটক অবস্থায় আছে। উপাচার্য মহোদয় দেশে ফিরলে আমরা এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করব। কোনো চক্রের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। তদন্ত করার পর জানা যাবে।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৩/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
