এইমাত্র পাওয়া

সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে ভাঙানোর প্রবণতা বেশি

 নিজস্ব প্রতিবেদক।।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুমাস সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ইতিবাচক থাকলেও পরের তিন মাস ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এ তিন মাসে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের চেয়ে বেশি প্রায় ৩ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা ভাঙানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। যদিও সামাজিক সুরক্ষার কথা বিবেচনায় সঞ্চয়পত্রে তুলনামূলক বেশি মুনাফা দেয় সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, মূল্যস্ফীতিতে জীবনযাপনের খরচ বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ে সঞ্চয়ের ওপরও। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ে যাদের সংসার চলে, তাদের অনেকে এখন সঞ্চয়পত্র ভেঙে খাচ্ছেন। এ ছাড়া নানা কড়াকড়ির কারণেও সঞ্চয়পত্র থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে এ খাতে আশানুরূপ বিক্রি বাড়ছে না।

জানা যায়, কড়াকড়িসহ বিভিন্ন কারণে গত অর্থবছরের ৭ মাসই সঞ্চয়পত্রের বিক্রিতে ধস নামে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুমাসে নিট বিক্রি বেশ বেড়েছিল। এর কারণ, এ সময় যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক কম ভাঙানো হয়। আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্র থেকে ভাঙানো বাবদ আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে নিট বিক্রি বলা হয়। নিট বিক্রিকে সরকারের ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ নভেম্বরে নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা, আগস্টে নিট বিক্রি ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণাত্মক, সেপ্টেম্বরে ঋণাত্মক ছিল ১৪৭ কোটি টাকা। যদিও অর্থবছরের প্রথম দুমাসে ভাঙানোর প্রবণতা কম থাকায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়ে ৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা হয়েছিল। সব মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণাত্মক ছিল ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে নিট বিক্রি দাঁড়ায় ঋণাত্মক প্রায় ৩ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় ৮০ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। একই সময় ভাঙানো হয় ৮৪ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। ফলে এ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার এক টাকাও ঋণ পায়নি।

২০২১-২২ অর্থবছরেও সঞ্চয়পত্র থেকে তুলনামূলক কম ঋণ পেয়েছিল সরকার। ওই অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নিট ঋণ আসে ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। অথচ করোনার পরও ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। তথ্যমতে, গত নভেম্বর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, যা জুন শেষে ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.