ঢাকাঃ দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামেন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষকরা। সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায়ে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
ঝড়-বৃষ্টি, রোদ উপেক্ষা করে গত ১১ জুলাই থেকে টানা ২৩ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও অনশন করেন শিক্ষকরা। এতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি জানিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। ১ আগস্ট রাতে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষক নেতারা। বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে অনশন স্থগিত করে ক্লাসে ফেরেন।
২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। তিন ধাপে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ, তৃতীয় ধাপের বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
১৯৯৪ সালে রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন মাসিক মাত্র ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। এভাবে একই ধারায় চলতে থাকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ও রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সরকার ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করলেও উপেক্ষিত থাকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো। প্রায় তিন দশক ধরে পাঠদান করেও বেতনবঞ্চিত রয়েছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ২০ হাজার শিক্ষক। জাতীয়করণের দাবিতে রাজপথে নামেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তারাও আন্দোলনে মাঠে নামেন। সহকারী শিক্ষকরাও এখন দশম গ্রেডে বেতন দাবি করছেন।
আন্দোলনে করেন অনার্স-মাস্টার্স পড়ানো হয় এ রকম কলেজের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষক। তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত থাকলেও তাদের পদগুলো এমপিও-প্যাটার্নে নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা কলেজের দেওয়া নামমাত্র বেতনে চাকরি করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন দাবিতে সদ্য জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের আন্দোলন ছিল বছরজুড়েই।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
