ঢাকাঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা গত ১৫ বছরের ক্ষমতাকালে বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। এর মধ্যে বৃদ্ধির হার বিবেচনায় এগিয়ে আছে ডিজিটাল খাত সম্পর্কিত বিষয়গুলো। পিছিয়ে আছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত।
১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাজেট, জিডিপি ও বাজেটের আকার, সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমের উপকারভোগী, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ থেকে শতাধিক গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। সে তুলনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতের বেশ কিছু খাতের উন্নয়ন বেড়েছে ২ থেকে ৫ গুণের মধ্যে।
প্রধানমন্ত্রীর ইশতেহার ঘোষণার ভাষণ অনুযায়ী, ১৫ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রের ওয়ান স্টপ সেন্টারের (এক ছাদের নিচে সব সেবা) সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে চার হাজার গুণ। ২০০৬ সালে এ সংখ্যা ছিল দুটি।যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে আট হাজার ২৯৮টি।
অর্থনৈতিক খাতে সবচেয়ে বেশি ১৩ গুণ বেড়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাজেট। ২০০৬ সালে এডিপির বাজেট ছিল ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ১৩ গুণ বেড়ে বর্তমানে হয়েছে দুই লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৪ কোটি। ১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বাজেট ও জিডিপির আকার।
মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০৬ সালে ছিল ০.২৩ শতাংশ। এখন ৭৮.৫৫ শতাংশ। বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪২ গুণ। সরকারি ওয়েবসাইটের সংখ্যা ৯৮ থেকে হয়েছে ৫২ হাজার ২০০টির বেশি।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ১৫ বছরে দুই হাজার ৫০৫ কোটি টাকা থেকে এক লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা অর্থাৎ ৫০ গুণ বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমের উপকারভোগী (ভিজিএফ, ভিজিডি, ভিডাব্লিউবি, টিআর, জিআর, কাবিখা, কাবিটা, ইজিপিপি, ওএমএস) চার লাখ ৩০ হাজার থেকে হয়েছে চার কোটি ৬১ লাখ ১৫ হাজার জন।
যোগাযোগ খাতে জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়ক ২০০৬ সালে ছিল ১২ হাজার ১৮ কিলোমিটার। যা এখন ৩২ হাজার ৬৭৮ কিলোমিটার হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক তিন হাজার ১৩৩ কিলোমিটার থেকে ৭৬ গুণ বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৬ কিলোমিটার।
বৃদ্ধির হার বিবেচনায় এসব খাতের চেয়ে পিছিয়ে আছে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটারি ল্যাট্রিন, সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ও সাক্ষরতার হার। নিরাপদ খাবার পানির সহজলভ্যতা ২০০৬ সালের ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৮.৮ শতাংশ হয়েছে। স্যানিটারি ল্যাট্রিনের সংখ্যা ৪৩.২৮ থেকে ৯৭.৩২ শতাংশ হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ২০০৬ সালে দেশে সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৫৭৯টি। এখন বেড়ে হয়েছে ৭১ হাজার। বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ। ৩ গুণ বেড়ে সরকারি চিকিৎসকের সংখ্যা ৯ হাজার ৩৩৮ জন থেকে হয়েছে ৩০ হাজার ১৭৩ জন।
শিক্ষা খাতে সাক্ষরতার হার ২ গুণ বেড়ে ৪৫ থেকে ৭৬.৮ শতাংশ হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ৫৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৮.২৫ শতাংশ। তবে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ০.৮ শতাংশ থেকে ১৭.৮৮ শতাংশ হয়েছে।
কৃষিতে দানাদার শস্যের উৎপাদন এক কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন থেকে হয়েছে চার কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। সেচের আওতাভুক্ত কৃষি জমি ৩ গুণ বেড়ে ২৮ লাখ হেক্টর থেকে এখন ৭৯ লাখ হেক্টর।
এ ছাড়া শূন্য থেকে শুরু করা বিষয়গুলোর মধ্যে ৩২টি জেলা (নভেম্বর পর্যন্ত) ভূমি-গৃহহীনমুক্ত হয়েছে।
২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় ছিল এর সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করতে ইশতেহার ঘোষণার সময় উন্নয়নের এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
