নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট নাগরিক গড়তে দরিদ্র ও দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ আরও প্রসারিত করার কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগই শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। সেই নীতি অনুসরণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করছে আওয়ামী লীগ। ফলে ২০০৯-২০২৩ সময়কালে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ও যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়, শিক্ষার বিকাশ দেশের উন্নয়ন, সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন ও দারিদ্র্য নিরসনে গতি সঞ্চার করে। এই বিশ্বাস থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ যুক্তিসঙ্গত করবে এবং তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়টি ইশতেহারে উঠে এসেছে। শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়ানোসহ নানা কল্যাণমুখী ও যুগোপযোগী উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ও মর্যাদা বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়াসহ এর সিংহভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। এছাড়া বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন সহায়তা (এমপিওভুক্তি) কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে মেধা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।
নারী-পুরুষের শিক্ষার সমহার নিশ্চিতের কথাও বলা হয়েছে ইশতেহারে। এরজন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের অনুপাত ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।
ইশতেহারে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভাষা, উচ্চতর গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য উপযুক্ত ল্যাবরেটরি গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। মেধাবী বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি প্রদান করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে যথাযথ শিক্ষা পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নারী শিক্ষা প্রসারের সঙ্গে সংগতি রেখে উপবৃত্তি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। দরিদ্র ও দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ আরও প্রসারিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক, উৎপাদনমুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তুলতে জাতীয় শিক্ষাক্রম- ২০২২ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আলোকে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতে ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ৭৩৭ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ এবং প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারীকরণের মাধ্যমে এক অনন্য নজির স্থাপন করা হয়। ২০২৩ সাল নাগাদ প্রায় ৫ হাজার ১০০ বেসরকারি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, যার সুফল ভোগ করছেন প্রায় ৯৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। এছাড়া বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১ হাজার ৪৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় ‘ঝরে পড়ার হার’ ২০০৮ সালে ছিল ৫০ শতাংশ, তা ২০২২ সালে ১৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিট ভর্তির (এনরোলমেন্ট) হার প্রায় শতভাগ। ২০২৩ সালে সাক্ষরতার হার ৭৬.৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
‘বই উৎসব’ উদযাপনের মাধ্যমে বছরের প্রথম দিনে ১০ম শ্রেণি বা সমমান পর্যন্ত বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। বই বিতরণের ফলে ভর্তির হার বেড়েছে এবং ঝরে পড়া কমে আসছে।
২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল), এসএসসি (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৬০ কোটির বেশি কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২২ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৮৮ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ব্রেইল বইও বিনামূল্যে দেয়া হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন জেন্ডার সমতা। ছাত্রী ভর্তির হার ২০২১ সালে মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ-১০ম) স্তরে ছিল ৫৪.৬৭ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) স্তরে ৫২.১৩ শতাংশ।
২০১৫ সালে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১টি স্কুল ও ১টি কলেজ সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া হয়। ২০২৩ সাল নাগাদ ৬৭৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৬৩টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতে দেশব্যাপী ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ শুরুর আগে সারা দেশে ৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ‘মিড-ডে মিল’ চালু ছিল।
সরকারি স্কুল-কলেজ ও টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানে ২০০৯ সালের তুলনায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৫ হাজার ১২৬ জন (বৃদ্ধির হার ৩০.৫১ শতাংশ) ও কলেজ পর্যায়ে ৫৬ হাজার ৭১৬ জন (বৃদ্ধির হার ৬৫.৭৩ শতাংশ) শিক্ষক নিয়োগ বেড়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হওয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার প্রসারে দেশে ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১১৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কর্মমুখী, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করে প্রতি উপজেলায় আন্তর্জাতিক মানের একটি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
এছাড়া সরকার চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, নতুন দুটি সার্ভে ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে এবং অন্য দুটি সার্ভে ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী এবং কর্মমুখী শিক্ষায় রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে স্নাতকোত্তর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
