এইমাত্র পাওয়া

গ্রামাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষা কীভাবে চলছে

খাদিজা আক্তারঃ বর্তমানে বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে। প্রতিবছর এই বিদ্যালয়গুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে তবুও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থার খুব একটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে না। বহু সমস্যায় জর্জরিত এই বিদ্যালয়গুলো। যা সমাধানের প্রতি কারও নেই কোনো আগ্রহ।

গ্রামাঞ্চলের বহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় না। এখানে স্বল্প শিক্ষকের মাধ্যমেই তাদের পাঠদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। যা-ও বা নিয়োগ দেওয়া হয় তাতেও যোগ্যতার মাপকাঠি কমই থাকে। সাধারণত একজন শিক্ষক নিজ বিষয়ে অধিক দক্ষ হয়ে থাকেন। কিন্তু তাঁকে যদি অন্য বিষয়েও ক্লাস নিতে হয় তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের সেই বিষয়ে সঠিকভাবে বোঝাতে ব্যর্থ হন। এতে করে শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষলাভ থেকে বঞ্চিত হয়।

শহরাঞ্চলের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, অভিভাবকেরা সন্তানদের প্রতিদিনের বাড়ির কাজ এবং শিক্ষকের পাঠদান সম্পর্কে অধিক সচেতন থাকেন। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ অভিভাবক এসব ব্যাপারে অসচেতন। তাঁরা শিক্ষকদের পাঠদান সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখেন না। এতে করে কিছু কিছু শিক্ষক অবহেলার সঙ্গে পাঠদান করে থাকেন। ক্লাস নিতে হবে তো নিচ্ছেন ব্যাপারটা যেন এমন।

মাধ্যমিক পর্যায়টাই একজন শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করার উপযুক্ত সময়। এই পর্যায়ে এসে একজন শিক্ষার্থী বুঝতে শুরু করে, জানতে শুরু করে যে জ্ঞান অর্জন তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এককথায় এই মাধ্যমিক স্তরকে বলা যেতে পারে জ্ঞান অর্জনের শিকড়। কিন্তু এখানে নানা ধরনের সংকট আমরা দেখতে পাই।

শিক্ষকগণ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উঠতে পারেন না কিংবা বহু শিক্ষক সে চেষ্টা করেনও না। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। অথচ গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষক তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নন। তাঁরা গবেষণা, উদ্ভাবনের সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করতে পারেন না। তাঁরা শুধু পাঠ্যবইয়ে পড়ে থাকেন।

আমাদের দেশে স্কুল, কলেজে ও গ্রন্থাগার স্থাপনের প্রচলন রয়েছে। যেখানে শুধু পাঠ্যবই না রেখে বিভিন্ন বিষয়ের বই ও রাখা হয়। এই গ্রন্থাগারে থাকা বই পড়ে শিক্ষার্থীরা সহজেই নিজের জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারে। এককথায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে, নৈতিক, মানসিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রতকরণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। এত ভূমিকা থাকে সত্ত্বেও গ্রামাঞ্চলের অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই গ্রন্থাগার নেই বললেই চলে। যে বিদ্যালয়গুলোতে গ্রন্থাগার নেই সেই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাও এই বিষয়ে খুব একটা অবগত নয়। ফলে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করতে পারে না তারা। তারা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়ে উঠতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে সমৃদ্ধ করতে বিজ্ঞানাগারের কোনো বিকল্প নেই। বিজ্ঞানাগারে বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়ে থাকে। যার মাধ্যম শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এই আধুনিক যুগে এসেও গ্রামাঞ্চলের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে আমরা এর করুন দৃশ্য দেখতে পাই। সেখানে অনেক বিদ্যালয়েই নেই কোনো বিজ্ঞানাগার। না আছে ভালো বিজ্ঞান শিক্ষক না আছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে দেখা যায় অল্প কিছু সরঞ্জাম থাকে যা দীর্ঘদিন ব্যবহার ছাড়াই পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ব্যবহারিক ক্লাস না পেয়ে ব্যবহারিকের নম্বর ঠিকই পেয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা নিজেদের ইচ্ছে মতো নম্বর দিয়ে থাকেন। কারণ বিজ্ঞানাগার না থাকার কারণে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিকের ক্লাসগুলো নিতে পারেন না।

বাংলাদেশর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাধারণত স্কাউটিংয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সহজেই চরিত্রবান ও আধুনিক মানুষে পরিণত হতে পারে। স্কাউটরা নেতৃত্বদানে পারদর্শী হয়ে উঠে। তারা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দল হিসাবে কাজ করে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলে। তবে এ বিষয়ে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে স্কাউটের দল নেই, নেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো কোনো ব্যক্তিও। তাই দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কাউটিং এর দল গঠন নিশ্চিত করা উচিত।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নতি করতে চাইলে মাধ্যমিকের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। এর জন্য শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। দায়িত্বরত ব্যক্তিদের যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

লেখকঃ  শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৮/১২/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়

“মুক্তমত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.